বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ মানবাধিকারের অদ্বিতীয় এক শ্রেষ্ঠ সনদ। রাসুলুল্লাহ (স.) ইসলামের মর্মবাণী উচ্চারণ করেছিলেন এ ভাষণে। তাই ইসলামের বিদায় হজের ভাষণ এক চিরন্তন দলিল।
দশম হিজরিতে যখন আরবের লোক দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করতে শুরু করল, তখন মহানবী (সা.) ভাবলেন, তাঁর কাজ শেষ হয়েছে। মৃত্যুর আর বেশি দিন বাকি নেই মনে করে তিনি মক্কায় গিয়ে শেষ হজ পালন করতে সংকল্প করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি জিলকদ মাসে লক্ষাধিক সাহাবার এক কাফেলা নিয়ে মক্কায় গমন করেন। মহানবী (সা.)-এর এই শেষ হজকে ‘বিদায় হজ’ বলা হয়। আর এই হজের সমাপ্তিতে যে ভাষণ প্রদান করেন সেটি হলো ‘বিদায় হজের ভাষণ’।
বিদায় হজের ভাষণটি মহানবী (সা.) আরাফাত পর্বতের শীর্ষে দাঁড়িয়ে জনসমুদ্রের সম্মুখে প্রদান করেন। ভাষণের বিষয়বস্তু হলো-
১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না।
২. দুনিয়ার প্রতিটি কাজের জন্য তোমাদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
৩. স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেরূপ অধিকার আছে, স্ত্রীদেরও তোমাদের ওপর সেরূপ অধিকার আছে।
৪. পাপাচার থেকে দূরে থাকবে।
৫. সুদ খাওয়া হারাম।
৬. রক্তের বদলে রক্তের নীতি এখন থেকে নিষিদ্ধ।
৭. সব মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই।
৮. তোমরা দাস-দাসীর প্রতি ভালো ব্যবহার করবে। নিজে যা খাবে, যেমন বস্ত্র পরিধান করবে, তাদেরকেও অনুরূপ খাদ্য ও বস্ত্র দেবে।
৯. তোমরা অন্যায়ভাবে নরহত্যা করবে না এবং কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হবে না।
১০. যদি কোনো নাক-কান কাটা হাবশি গোলামও তোমাদের নেতা নিযুক্ত হয়, তবে যে পর্যন্ত সে পবিত্র কুরআন নির্দেশ অনুযায়ী মীমাংসা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার আনুগত্য করবে।
১১. যারা এখানে উপস্থিত আছ তোমরা আমার বাণী অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে।
১২. তোমাদের জন্য কুরআন ও হাদিসের বাণী রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটো আঁকড়ে থাকবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না।
১৩. আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না (মুসলিম : ৩০০৯)। আরাফাত ময়দানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রদত্ত বিদায় ভাষণে তাওহিদ, খতমে নবুয়ত, সামাজিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবতা, নৈতিকতা, দার্শনিকতা ও বাস্তবতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। এ জন্য বিদায় হজের ভাষণ মানবাধিকারের মহাসনদ বলে ইতিহাসের পাতায় চির অম্লান হয়ে থাকবে।
লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদরাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
সময়ের আলো/জেডি