দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে সরকারি-বেসরকারি মাদরাসার দুটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও সংসদকে অবহিত করেছেন তিনি।
বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়।
‘উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের আগে স্থানীয়দের সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি তা দেশের জন্য ভালো হবে। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে বসতবাড়ি ও কৃষিজমির বিষয় আছে। আগে সেখানকার স্থানীয় মানুষের ‘সেটেলমেন্টের’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য। খুব স্বাভাবিকভাবে মাননীয় সংসদ সদস্য উনার যে কনসার্নটি এক্সপ্রেস (উদ্বেগ প্রকাশ) করেছেন, অবশ্যই দেশে যেই সমস্যাটি আছে জ্বালানির, এটিকে যে রকম আমরা সমাধান করতে চাইছি, আমাদের দেশে ফুলবাড়ীতে যে কয়লার কথা উনি বলেছেন, সেই কয়লা পৃথিবীর যেসব ভালো কয়লা আছে তার মধ্যে একটি। কাজেই আমরা এই কয়লাটিকে উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা যে রকম সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ওপেন পিট (উন্মুক্ত পদ্ধতি) যদি করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু বসতবাড়ি আছে, সেখানে কৃষিজমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য, অবশ্যই সবচেয়ে আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেই মানুষগুলোকে আগে সেটেলমেন্ট (স্থানান্তর) করা যায়। তাদের সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা করে, তাদের যাতে আয়-রোজগার বন্ধ না হয়, বরং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে প্রকল্প থেকেও যাতে তারা কোনো না কোনোভাবে বেনিফিট পেতে পারে, সেসব ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেই এবং অবশ্যই পরিবেশের যে বিষয়টি আছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যুক্তিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদনের আলোচনা করছে। এ পদ্ধতিতে অধিক কয়লা উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও কৃষিজমি, বসতি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিশেষ করে জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ফুলবাড়ী প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নামে যদি কৃষিজমি ধ্বংস হয়, হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ হয় এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তা হলে সে উন্নয়ন জনগণের জন্য নয়। সরকারকে আগে পূর্ণ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা প্রকাশ করতে হবে এবং স্থানীয় জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের মনোভাব জানতে চান।
২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানির কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের বিশাল সমাবেশে সে সময়ের বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) গুলি চালালে তিনজন নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক আন্দোলনকারী। এরপর ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর, বিরামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে সে বছরের ৩০ আগস্ট সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ করেছিল।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে