বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। গত ৩ আগস্টের এ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের পদ্ধতিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হবে। নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগের মতোই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি (বাছাই), লিখিত ও মৌখিক— এই তিন ধাপ থাকছে। এসব ধাপ পেরিয়ে নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে হবে প্রার্থীদের। নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকেই এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে, অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সরাসরি নিয়োগের যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আর কার্যকর হচ্ছে না।
এর আগে, ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী, এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না।
এর ফলে, দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএর মাধ্যমে চলে আসা কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয় এনটিআরসিএর পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতে। অন্যদিকে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষক-সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এত দিন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসছিল।
সম্প্রতি এসব পদেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা প্রায় পাঁচ মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো মৌখিক পরীক্ষা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শিগগিরই নেওয়া হতে পারে। এ জন্য ভাইবা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
এনটিআরসিএর সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ এক গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকের রেজোল্যুশন তিনি এখনো পাননি। রেজোল্যুশন পাওয়ার পর নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন।
এদিকে, এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলি প্রক্রিয়া আগে সম্পন্ন না করে নতুন নিয়োগ দেওয়া হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে বদলি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ