জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার মামলার আসামি আহসান লাবিবকে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিবকে আসামি করা হয়।
বুধবার (২ আগস্ট) জাতীয় ছাত্রশক্তির পঞ্চম সাধারণ সভায় সংগঠনটির সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর আহসান লাবিবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহসান লাবিবসহ আট শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করে।
পরে শামীম মোল্লার বড় ভাই শাহিন আলম একই বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আহসান লাবিবসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন, উপ-রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমকেও আসামি করা হয়।
হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও আহসান লাবিব পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক নির্বাচিত হন। এবার তাকে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হলো।
শামীম মোল্লা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে।’
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান লাবিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ানের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলছে। ছাত্রলীগেরও কেউ কেউ তাকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে। সে কতটুকু অপরাধী বা কতটুকু অপরাধী নয়, সেটা দেশের আইন, আদালত ও বিচার করবে।’
সময়ের আলো/টিকে