দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পদ্মা সেতু হয়ে ২১ জেলার প্রবেশদ্বার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ৮ মাসে এ সকল দুর্ঘটনায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৩০০ জন।
আগস্ট মাসে নিহত হয়েছে মোট ১১ জন, জুলাই মাসে ৬ জন, জুন ৮ জন, মে মাসে ৯ জন, এপ্রিলে ৪ জন, মার্চে ৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, জানুয়ারিতে ৫ জন। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ, চালক এবং স্থানীয়রা এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন বেপরোয়া গতি, তীব্র যানবাহনের চাপ ও ৪টি সরু সেতুকে। দুর্ঘটনা রোধে, শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ, জেলা পুলিশসহ ২টি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
সরেজমিনে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ বঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার, যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক হিসাবে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। এক্সপ্রেসওয়ে ছাড়া ভাঙ্গার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-ভাঙ্গা বরিশাল মহাসড়কে এখনও দুই লেনের ৪টি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান হচ্ছে বাবনাতলা সরু বা চাঁপা সেতু এলাকা। এই সরু সেতুর স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনা। এতে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন হয়।
এ সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। সেই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলারের দৌরাত্ম্য এবং মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছেই। বাসচালক জুয়েল বলেন, আমরা নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। এসব যানবাহনের চালকরা অনেক সময় ট্রাফিক আইন না মেনে বেপরোয়া চলাচল করেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দীপু সময়ের আলোকে বলেন, দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গার ওপর দিয়ে ২১ জেলার যানবাহন চলাচল করায় সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। যার ফলে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করা হচ্ছে। এবং সড়কে দুর্ঘটনা রোধে আমরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুত যানবাহন চলাচল ও মহাসড়কগুলো দ্রুত প্রশস্ত করার পাশাপাশি সরু সেতু ও কালভার্টগুলো প্রশস্ত করা, মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারি চালিত অটো ও ব্যাটারির চালিত ভ্যান নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
সময়ের আলো/আতা