বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমান নামটা আসলে কত বড়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে নানামুখী জবাব আসবে। সব জবাবের সারমর্ম অবশ্য একই থাকবে। মুস্তাফিজ নামটা ‘বিশাল।’ আগের সব বাদ দিলেও চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার জল কতদূর গড়িয়েছে, তা সবার জানা। এতটাই যে, এখনও সেই জল মাঝেমধ্যে ঘোলা হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুস্তাফিজের আবির্ভাব ধুমকেতুর মতো। শহিদ আফ্রিদিকে হতভম্ব করে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট নেওয়া ফিজ আজ অবধি এক রহস্যের নাম। কথা কম বলেন। কাজে বিশ্বাসী। মাঠে যখন নামেন, মনোযোগের পুরোটা থাকে বাইশ গজে। তাকে তাই বিজ্ঞাপনের ঝা চকচকে বিলবোর্ডে কম দেখা যায়। প্রবল সমালোচনাতেও মুখে কুলুপ আঁটেন। জবাব দেওয়ার কাজটা করেন বল হাতে। বাংলাদেশের চলমান পেস বিপ্লবে তিনি হয়তো সর্বসেরা নন, তবে তাকে ছাড়া ইউনিট অসম্পূর্ণ।
টেস্ট ক্রিকেটটা খেলেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা কাউন্টি ক্রিকেটে হালফিলে হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদরা শুরু করলেও বল হাতে বাংলাদেশের পোস্টার বয় নিঃসন্দেহে ফিজ। ডেথ ওভারে আজও লাল-সবুজের সবচেয়ে বড় ভরসা তিনি।
পরিসংখ্যানকে অনেকে ‘বোকা’ বলেন। ফিজের নামের পাশে যা আছে, তা আসলে ভীষণ দুর্দান্ত কিছু নয়। কিন্তু, তার ইমপ্যাক্ট? তার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ডেভিড ওয়ার্নারের বাংলা শেখা, ইয়র্কার সামলাতে না পেরে অ্যান্ড্রু রাসেলের ভারসাম্য হারানো, মহেন্দ্র সিং ধোনির ‘গুতো’র জবাবে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠা, নিজের অভিষেক ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ২০ উইকেট (২০১৯ সালে) কিংবা সবশেষ আইপিএল ইস্যু ধরে বিশ্ব ক্রিকেটের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া-মুস্তাফিজকে বুঝতে এসবও যথেষ্ট নয়।
৩১ বছরে পা দিলেন। ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া মুস্তাফিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চেনা মুখ ১১ বছর ধরে। ১২৪ ওয়ানডেতে ১৯৩ উইকেট, ১৫ টেস্টে ৩১ উইকেট আর ১২৮ টি-টোয়েন্টিতে ১৬০ উইকেট পাওয়া ফিজের সামর্থ্য এরচেয়ে বেশি। ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণটা ফিজের বেশ প্রিয়। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক তিনি। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১০ রানে ৬ উইকেট নেন। তার আগে কোনো বাংলাদেশি বোলার টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসে ৬ উইকেট নিতে পারেননি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক রেকর্ডেও নাম কাটার মাস্টারের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ডটবল দেওয়া বোলার তিনি (২০২৫ সালের অক্টোবরের হিসেব মতে ১ হাজার ১৪২টি ডট বল দিয়ে শীর্ষে মুস্তাফিজ)।
বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে হাহাকারের শেষ নেই। আমাদের অনেক কিছু নেই। কথাটা সত্যি। তবু বুক ফুলিয়ে বলার মতো একজন মুস্তাফিজ আছেন।
সময়ের আলো/জেডি