ফিফা আসিয়ান কাপ শুরু হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শক্ত প্রতিপক্ষ। তিন দলের বিপক্ষে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। আর সেই জায়গাতেই কোচ থমাস ডুলির পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
ফুটবলের পুরোনো কথা, আক্রমণ ম্যাচ জেতায়, আর রক্ষণ জেতায় শিরোপা। কিন্তু আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেন মিডফিল্ডাররা। দলের ছন্দ তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো, আবার সুযোগ বুঝে আক্রমণে ওঠা, সবকিছুতেই মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি মৌসুমে ইউরোপের ফুটবলে বড় দলবদলের বাজারেও যার প্রমাণ মিলেছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া তিন খেলোয়াড়ের সবাই মিডফিল্ডার। ফুটবল যত আধুনিক হচ্ছে, মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের গুরুত্বও তত বাড়ছে।
ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত মাঝমাঠ। বিশেষ করে ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেললে থমাস ডুলি কাদের নিয়ে তার মাঝমাঠ সাজাবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সেখানে সবার আগে আসছে হামজা চৌধুরীর নাম। বাংলাদেশের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা তিনি। একাদশ সাজানোর সময় তাঁকে ঘিরেই পরিকল্পনা করতে হবে ডুলিকে। পুরো মাঠজুড়ে বিচরণ করার সামর্থ্য আছে হামজার। ফ্রি রোলে খেলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। তবে দলের ভারসাম্য ধরে রাখতে তাঁকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।
এরপরের নাম জামাল ভূঁইয়া। সেন্ট্রাল মিডফিল্ড কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড, দুই জায়গাতেই খেলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তবে হামজাকে যদি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে রাখা হয়, জামালকে সেন্ট্রাল মিডে খেলিয়ে মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার ভার বাড়াতে পারেন ডুলি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম সামিত সোম। তার সঙ্গে জামাল ভূঁইয়ার পজিশনের কিছুটা মিল রয়েছে। ফলে দুজনকে একই সময়ে মাঠে নামাতে হলে ফরমেশনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে ডুলি যেহেতু পজিশনভিত্তিক এবং হাই প্রেসিং ফুটবল পছন্দ করেন, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী এই তিন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকে একসঙ্গে মাঠে নামানোর পরিকল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
হামজা, জামাল ও সামিতকে একসঙ্গে খেলালে বাংলাদেশের মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের চাপ সামলে বল দখলে রাখা এবং দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে এই ত্রয়ী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত ডুলি কোন কৌশল বেছে নেন, সেটিই ঠিক করবে এই তিনজন একসঙ্গে মাঠে থাকবেন কি না।
বাংলাদেশের সাবেক কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার সময়ে এই তিন মিডফিল্ডারকে একসঙ্গে খেলিয়ে সাফল্য পাওয়ার পরিকল্পনা খুব একটা দেখা যায়নি। এবার নতুন কোচ থমাস ডুলি সেই পথে হাঁটেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
সময়ই বলে দেবে বাংলাদেশ ফিফা আসিয়ান কাপে কতদূর যেতে পারবে। তবে ডুলির জন্য পরীক্ষাটা হবে বেশ কঠিন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক ম্যাচ পরই বাংলাদেশের সামনে ফিফার আয়োজিত প্রথম টুর্নামেন্ট। আর সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্যের বড় চাবিকাঠি হতে পারে মাঝমাঠের এই ত্রয়ী।
সময়ের আলো/টিকে