জিকোর নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই যেন বাংলাদেশের গোলপোস্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে। প্রতিপক্ষ আক্রমণে গেলেই তৈরি হয় গোল হজমের শঙ্কা। কখনও মিতুল মার্মা, কখনও শ্রাবণ সামলেছেন পোস্ট। কিন্তু কেউই এখন পর্যন্ত জিকোর মতো স্থায়ী ভরসার জায়গা তৈরি করতে পারেননি। আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপে ভালো করতে হলে তাই কোচ থমাস ডুলির জন্য জিকোই হতে পারেন বড় সমাধান।
গত মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন জিকো। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ১৭ ম্যাচে পাঁচটি ক্লিনশিট রেখেছিলেন তিনি। কোচ হিসেবে থমাস ডুলি দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও কোচের নজরে এসেছেন এই গোলকিপার। সান ম্যারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপের প্রাথমিক দলেও জায়গা পেয়েছেন জিকো।
জাতীয় দলের জার্সিতে জিকো ফিরতে পারলে গোলপোস্টের নিচে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমতে পারে। এবারের আসিয়ান কাপে একাধিক বিদেশি খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতে শক্তিশালী দল গড়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। শিরোপার চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে সবার আগে নিজেদের রক্ষণভাগ এবং গোলপোস্ট নিরাপদ করতে হবে। সেখানে ছন্দে ফেরা জিকোর চেয়ে বড় ভরসার নাম এই মুহূর্তে আর কে হতে পারেন?
পরিসংখ্যানও কথা বলছে জিকোর পক্ষেই। ২৩ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৩১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সেখানে ৪২ গোল হজমের বিপরীতে রেখেছেন আটটি ক্লিনশিট। অন্যদিকে শ্রাবণ সাত ম্যাচে হজম করেছেন ১০ গোল, আর মিতুল মার্মা ২১ ম্যাচে ৩৪ গোল।
অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যান, দুই দিক থেকেই তাই এগিয়ে জিকো। তবে প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়া মানেই মূল একাদশে ফেরার নিশ্চয়তা নয়। শেষ পর্যন্ত কোচ থমাস ডুলির আস্থা অর্জন করে গোলপোস্টের নিচে জায়গা করে নিতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ফিফা আসিয়ান কাপ। শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের বড় শক্তি হতে পারে আক্রমণভাগ, কিন্তু সেই আক্রমণকে সাফল্যে রূপ দিতে প্রয়োজন নিরাপদ রক্ষণও। কারণ আক্রমণ ম্যাচ জেতায়, আর শক্ত রক্ষণই জেতায় শিরোপা। সেই শিরোপা জয়ের পথে জিকোই হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশের ট্রাম্পকার্ড।
সময়ের আলো/টিকে