পালমেইরাসের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আগেই কঠিন হয়ে গিয়েছিল সান্তোসের। কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩–০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র করে বিদায় নিশ্চিত করেছে নেইমার জুনিয়রের দল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও বড় দুঃসংবাদ। ম্যাচে চোট পেয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার।
সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতেই ঘটেছে ঘটনাটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেন নেইমার। বিরতি পর্যন্ত মাঠে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর খেলতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময় চোখের পানি মুছতেও দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।
নেইমারের চোট কতটা গুরুতর, তা জানতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হবে। সান্তোসের হয়ে লিগের সর্বশেষ তিন ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছিলেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান কাপের সেমিফাইনালে উঠতে বুধবারের ম্যাচে তাই তার কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা ছিল দলের।
তবে ম্যাচ শেষে নেইমারের চোটের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে ভিলা বেলমিরোর মাঠের অবস্থাও। চোট পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মাঠকর্মীদের সমালোচনা করেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের আগের দিন মাঠের মাটি আলগা করা হয়েছিল। ফলে খেলার সময় মাঠটি গর্তে ভরা ছিল এবং তার দেখা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পরিণত হয়েছিল।
নেইমারের অভিযোগ, পালমেইরাসের বিপক্ষে সান্তোসকে শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, মাঠের বিরুদ্ধেও খেলতে হয়েছে। অসমান মাঠে দৌড়ানোর সময় গতি বাড়ানো কিংবা থামতে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রথমার্ধেই সান্তোসের তিন খেলোয়াড় চোট পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন নেইমার। এরপর মাঠকর্মীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে ‘অভিনন্দন’ জানান তিনি।
নেইমারের পাশাপাশি ওই ম্যাচে চোট পেয়েছেন সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। কোচ কুকা ম্যাচ শেষে বলেন, নেইমারকে ছাড়াই এখন দলকে সামলাতে হবে। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, তিন খেলোয়াড়ের চোট গুরুতর নয় এবং তারা দ্রুতই ফিরতে পারবেন।
চলতি মৌসুমে সান্তোসের হয়ে ২৪ ম্যাচে আট গোল করেছেন নেইমার। অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলটি বর্তমানে লিগে ১৪তম স্থানে রয়েছে, অবনমন অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে আছে চার পয়েন্টে। আগের মৌসুমেও পুরোপুরি ফিট না থাকা অবস্থায় দলের হয়ে লড়াই করে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নেইমার।
এবারও সান্তোসের জন্য তার সুস্থ হয়ে ফেরাটা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লিগে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলটির জন্য নেইমারের চোট নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের আলো/টিকে