ঢাকা (কেরানীগঞ্জ) কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় অসুস্থ হয়ে চার বন্দি ও কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বশেষ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজহারুল ইসলাম মিলন (৫১) মারা যান। এ ঘটনায় অসুস্থ আরেক বন্দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন আজহারুল ইসলাম মিলন। পরে কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আজহারুল ইসলাম মিলনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কারারক্ষীরা জানান, আজহারুল ইসলাম মিলনের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়। তার বাবার নাম সায়েম উদ্দিন। তিনি পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।
এর আগে রোববার সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান বন্দি আবুল বাশার (৫৪) ও কয়েদি আব্দুল কাইয়ুম (৬২)। অচেতন অবস্থায় তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল বাশার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেকান্দার আলীর ছেলে। আর আব্দুল কাইয়ুম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুদু মিয়ার ছেলে।
কারারক্ষী শহীদ ও হেমায়েত হোসেন জানান, সকালে কারাগারের পৃথক দুটি স্থানে আবুল বাশার ও আব্দুল কাইয়ুম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, ওই দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ছাড়া গত ২৮ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন কয়েদি মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন লিটন (৪৮)। তিনি খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। তাকে হাসপাতালের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, ২৮ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শাহাদত হোসেন লিটনকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সময়ের আলো/এসএকে