ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত অব্যাহত রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে হবে। যুদ্ধবিরতি যদি অধিকাংশ ইরানির ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর পক্ষেও মত দেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘টেলিগ্রাফ’ জানায়, সাবেক প্রাদেশিক গভর্নরদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন রুহানি। এ সময় বলেন, দেশের জাতীয় লক্ষ্য ও যুদ্ধের উদ্দেশ্য জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ইরান যদি আগামী ২০ বছর বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে কি না। জনগণ যদি অন্য কোনো পথ বেছে নেয়, তবে তাদের মতামত গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুহানি সরাসরি ‘গণভোট’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা তার বক্তব্যকে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা বা বন্ধ করার বিষয়ে জনগণের ভোট নেওয়ার আহ্বান হিসেবে দেখছেন।
রুহানি বলেন, যুদ্ধ অবশ্যই ‘সম্মানজনকভাবে’ এবং জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে শেষ করা উচিত। এতে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি করা সম্ভব হবে। তার দাবি, বর্তমানে যারা যুদ্ধের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সরব, তারা ইরানি সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রতিনিধিত্ব করে না।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন রুহানি। তার অভিযোগ, কট্টরপন্থী ও সামরিক ঘরানার কণ্ঠস্বরের আধিপত্যে থাকা জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম যদি বিভাজনের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তবে প্রেসিডেন্ট থেকে সাধারণ মানুষ— সবাই এর প্রতি আগ্রহ হারাবে।
২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রুহানি। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতার বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যায়।
এদিকে, রুহানির সাম্প্রতিক বক্তব্য ইরানের কট্টরপন্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী সংবাদমাধ্যম ফার্স তার বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
তাসনিম তাকে বিদ্রূপ করে ‘পরাজয়ের শেখ’ বলে অভিহিত করেছে। কয়েকজন কট্টরপন্থী রাজনীতিকও তার সমালোচনা করেছেন।
তবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুধু রুহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির ছেলে মোহসেন হাশেমিও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ