বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ফলকার তুর্ক বলেন, আমরা বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে, এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ৪৪টি সুপারিশ দেওয়া হয়।
সুপারিশগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি, গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বেসামরিক তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘের বিভিন্ন ট্রিটি বডিও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন তুর্ক। তিনি জানান, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অনেক অভিবাসীকে ‘সম্পর্কহীন’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।
সময়ের আলো/এমকে