ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীজয়ী হরেকালা হাজাব্বাকে ভোটার তালিকায় নামের অসঙ্গতির কারণে নোটিশ দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের পুরোনো ভোটার তালিকায় হাজাব্বার নাম শুধু ‘হাজাব্বা’ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। পরবর্তী সরকারি নথিপত্রে তার নাম ‘হরেকালা হাজাব্বা’ হিসেবে রয়েছে। এই নামের পার্থক্যের কারণেই নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তার আধার কার্ড, রেশন কার্ড, পাসপোর্ট, নতুন ভোটার পরিচয়পত্র এবং পদ্মশ্রীসহ বিভিন্ন পুরস্কারের নথিতে নাম রয়েছে ‘হরেকালা হাজাব্বা’।
নির্বাচন কমিশনের নোটিশটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় সব মূল নথি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে তাকে। সেখানে একজন গ্রাম হিসাবরক্ষকও উপস্থিত থাকবেন এবং নথিপত্র যাচাই করা হবে।
হাজাব্বা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করার পর নামের অসঙ্গতিটি সমাধান হয়ে যাবে।
কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুর রাস্তায় ও বাসস্ট্যান্ডে কমলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজাব্বা। নিজের ব্যবসা থেকে প্রতিদিনের সঞ্চয় দিয়ে তিনি নিজ গ্রাম নিউপাদাপুতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করেন। শিক্ষার প্রসারে তার এই উদ্যোগ তাকে জাতীয়ভাবে পরিচিত করে তোলে। ২০২০ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাকে পদ্মশ্রী দেওয়া হয়।
কর্ণাটকে এসআইআরের আওতায় প্রায় ৪৪ লাখ ভোটারকে নোটিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ আগস্ট থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির ধাপে এসব নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
গত ৩০ জুন কর্ণাটকে এসআইআর কার্যক্রম শুরু হয়। রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৩ লাখ ৮১ হাজারের বেশি নোটিশ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৩১ হাজার নোটিশ ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের এ প্রক্রিয়ায় ‘কোনো ম্যাপিং নেই’ এবং ‘অসঙ্গতি’ শ্রেণিতে থাকা ভোটারদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ২৭ অক্টোবর প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ