ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন সফর করে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার এক দিন পরই মঙ্গলবার সকালে রাজধানীজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
কিয়েভ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, একটি আবাসিক ভবনে মানুষ আটকা পড়েছিলেন। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
হামলার মাত্রা এতটাই ব্যাপক ছিল যে ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক বিমান আকাশে উড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে গত রোববার কিয়েভে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। এর এক দিন আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা।
বৈঠকের পর উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আয়োজনের সময়সূচি নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বৈঠক থেকে বড় কোনো সমঝোতার ঘোষণা আসেনি।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সপ্তাহান্তে দুই দেশের রাজধানীতে একে অপরের ওপর হামলা না চালানোর বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার বিরতিতে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। মঙ্গলবার সেই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই কিয়েভে আবার বড় ধরনের হামলা চালাল মস্কো।
এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে কিয়েভে রাশিয়ার হামলা তীব্রতর হয়েছিল। গত শুক্রবার দিনের বেলায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম ভবনটিতে হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়।
এই হামলাকে সংঘাতের বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রুশ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ইউক্রেন তার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় ক্রমেই চাপে পড়ছে।
এদিকে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে হামলা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার সারাতভ শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর।
শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মার্কিন উদ্যোগের মধ্যেই কিয়েভে নতুন করে রুশ হামলা দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ