২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের পর ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। আবেদন করার শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। অনলাইনে আবেদন করতে শিক্ষার্থীকে ২২০ টাকা ফি দিতে হবে।
ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়ন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে ভর্তি হতে হবে। একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
নীতিমালা অনুযায়ী, যে বছরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়, সেই বছর এবং তার আগের দুই বছরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণ করতে হবে। এরপর তারা আবেদনের সুযোগ পাবেন।
বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগের যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদনের সুযোগ থাকবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন।
আসন সংরক্ষণ ও কোটা
ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মরতদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মোট ২ শতাংশ কোটা থাকবে।
কোটার জন্য যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে ওই আসন মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা কেবল ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কার্যকর থাকবে।
মেধাক্রম নির্ধারণ যেভাবে
একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণের সময় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাওয়া মোট নম্বর বিবেচনা করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানের নম্বর দেখা হবে। এরপরও সমান থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নম্বর সমান হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।
স্কুল অ্যান্ড কলেজ কিংবা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন।
কলেজে ভর্তি ফি নির্ধারণ
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নিশ্চায়নে বোর্ড ফি ৩৪০ টাকা
শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা।
অনুমোদন ছাড়া ভর্তি নয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো কলেজ শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র বা টিসি ইস্যু করতে কিংবা ভর্তি নিতে পারবে না। অনুমোদন না থাকা শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি অথবা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ