বড় ধসের পর এক কার্যদিবস শেয়ারবাজারে মূল্যসূচক কিছুটা বাড়লেও মঙ্গলবার ফের দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
গত রোববার ডিএসইতে বড় ধরনের ধস নামে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট পড়ে যায়। এক দিনে প্রধান মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্টের ওপরে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে সোমবার দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক কিছুটা বাড়ে।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৬১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ফলে বাজারে পতন কেটে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার স্বপ্ন দেখতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।
কিন্তু দুপুর ১২টার পর এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী বাজারে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপ বাড়ান। বিপরীতে কমে ক্রেতার পরিমাণ। ফলে দেখতে দেখতে দাম বাড়ার তালিকা থেকে দাম কমার তালিকা বড় হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বড় উত্থান থেকে পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৮টির দাম কমেছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে।
বিপরীতে দাম কমেছে ৪৯টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৬টির দাম কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৯ লাখ টাকার। ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সায়হাম কটন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৬টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এরপরও সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৮ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি