দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা রামপাল পাওয়ার প্লান্টের ৬৬০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যার জন্য ইতোমধ্যে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদের তৃতীয় অধিবেশন চলাকালে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবসরে যাওয়া পাঁচটি পাওয়ার প্লান্টের সঙ্গে আলোচনা সফল হয়েছে। কোনো প্রকার ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই এসব কেন্দ্র থেকে চলতি সপ্তাহ থেকেই অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
এসময় উত্তরবঙ্গের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই খনিটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানকার অতিরিক্ত কয়লা জমার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় না চলায় কয়লা জমে ছিল। খনির কয়লা অন্য প্রান্তে পরিবহনও ব্যয়বহুল। তবে ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গে পরিবেশসম্মত প্রযুক্তিতে কয়লা উৎপাদন বাড়ানো গেলে, তা পরিবহনে প্রয়োজনে নতুন রেল অবকাঠামো তৈরি করা হবে।
গ্যাস সংকট মোকাবেলায় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে গত ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে, যা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিশ্বমানের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ চলছে।
এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোংলা বন্দর অববাহিকায় চলতি বছরই দুটি নতুন এফএসআরইউ চুক্তি সম্পন্ন হবে, যার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জমি অধিগ্রহণ ও ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দিনে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০টি কূপে কাজ চলমান রয়েছে। যা থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ২৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ