বিশ্ববাজারে সোনার দাম নিম্নমুখী, কমছে রূপার দামও। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯৬ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একইসঙ্গে গোল্ড ফিউচারের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৪১ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী চাকরির বাজারের তথ্যের পর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। একই সময়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। এর ফলে সোনা-রুপার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোনার দামের পাশাপাশি কমেছে রূপার দামও। স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ০৬ ডলারে নেমেছে। তবে, প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮২৫ দশমিক ২১ ডলারে উঠেছে। প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি আউন্স প্যালাডিয়ামের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০১ দশমিক ৮৪ ডলারে।
কেন কমছে সোনা-রুপার দাম
সোনার দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারের শক্তিশালী তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থির ছিল। এর ফলে ফেডের চলতি মাসের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৫৮ শতাংশ। শুক্রবার চাকরির তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৫০ শতাংশ।
পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘শক্তিশালী চাকরির তথ্যের পর বন্ডের সুদ বেড়েছে। এর ফলে ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশাও আরও জোরালো হয়েছে।’
মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষা
সোনার বাজারে এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে উৎপাদক মূল্যসূচকের তথ্য। এর পরদিন প্রকাশিত হবে ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য।
মূল্যস্ফীতির এই তথ্য ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা আয় না দেওয়া সোনার আকর্ষণ কমে। কারণ, তখন বন্ডসহ সুদনির্ভর বিনিয়োগ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
সোমবার লেনদেনে সোনার দাম কয়েকবার ৪ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে গেলেও সেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে।
ওলে হ্যানসেনের মতে, ৪ হাজার ৩২০ ডলারের কাছাকাছি সোনার দামের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনস্তর রয়েছে। অন্যদিকে, ৪ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে দাম ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে।
অর্থাৎ, আপাতত এই দুই স্তরের মাঝেই সোনার দামের গতিপথ বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/মহু