ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নকশা ও সার্ভেয়ার নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে সরকারি খালের পশ্চিমাংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করা হয়েছে। ভরাট করা অংশে পাকা দালান নির্মাণ, গাছপালা লাগিয়ে বাগান ও বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে ২৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে ছিলেন সাতুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন খন্দকার।
আবেদনে বলা হয়, খালের পশ্চিমাংশ স্থানীয় মো. মোস্তফা খলিফার বাড়ির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খলিফা বাড়ির নুরাণী মাদরাসার দক্ষিণ পাশে থাকা খালের ওই অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হলে জোয়ার-ভাটার পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। এতে কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন ও চাষাবাদে সুবিধা হবে এবং কৃষিনির্ভর মানুষ উপকৃত হবেন।
ইউএনও রিফাত আরা মৌরি বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভরাটের কারণে বর্তমানে খালের স্বাভাবিক আকৃতিও নেই। আপাতত পরিমাপ করে খালের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরেজমিন তদন্ত শেষে পরিমাপ করে খালের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজিব।
সময়ের আলো/মহু