সেনা সদস্য তাসনিম রিফাতের ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের শেষ দিন ছিল বুধবার। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সেনানিবাসে যোগদান করে শুক্রবার তার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। সে একদিন আগেই বাড়ি আসলেন মৃত হয়ে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। অনুশীলনের একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য সৈনিক তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তিন বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যান।
এর আগেহ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে তাসনিম রিফাতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সড়কপথে তার গ্রামের বাড়ি বিন্দারামপুরে নেওয়া হয়। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো প্রিয় রিফাতকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বাদ যোহর রিফাতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে সামরিক মর্যাদা প্রদান করেন। পরে সামাজিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত তাসনিম রিফাতের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৮ বছর। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ‘জুঁই’ নামের প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্বজনেরা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের স্বপ্নের অংশ ছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ধীরে ধীরে পরিবারের কাছে হয়ে ওঠেন গর্বের মানুষ। কর্মজীবনে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রিফাত।
কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাসনিম রিফাতের ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের শেষ দিন ছিল বুধবার। বৃহস্পতিবার বগুড়া সেনানিবাসে যোগদান করে শুক্রবার তার বাড়ি আসার কথা ছিল। সে একদিন আগেই বাড়ি আসল। কিন্তু লাশ হয়ে। এ ধরনের ঘটনা যেন না হয় সে জন্য সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার কথাও বলেন আসাদুল ইসলাম।
সময়ের আলো/জোই