পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে সুমন সিকদার (৩৮) নামের এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার মরদেহ পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুবদলের এক কর্মীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন সিকদার ওই গ্রামের মৃত আদম আলী সিকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে সুমনের সঙ্গে স্থানীয় রফিক হাওলাদারের ছেলে ও যুবদলের সক্রিয় কর্মী রিগ্যান হাওলাদারের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রিগ্যান, মনা তালুকদারসহ ৮ থেকে ১০ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে মৃত ভেবে পাশের একটি পুকুরে ফেলে চলে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুমনকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সত্যজিৎ দত্ত তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় যুবদল কর্মী রিগ্যানের সঙ্গে তার ছেলে সুমনের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে বসে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রিগ্যান ও তার সহযোগীরা সুমনকে কুপিয়ে পুকুরে ফেলে যান।
নিহতের ছেলে তানভীর সিকদার বলেন, কিছুদিন আগে মনা তালুকদার তার সৎমা মনি বেগমকে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনা নিয়ে তার বাবা সুমনের সঙ্গে মনার বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরে মনার পক্ষ নিয়ে রিগ্যান ও তার সহযোগীরা তার বাবার ওপর হামলা চালান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে রিগ্যান হাওলাদার, মনা তালুকদারসহ অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। মনা তালুকদার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই