দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তানজিনা খাতুনের স্বাক্ষর জাল করে নাগরিকত্ব সনদ তৈরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে আটক ওই দুইজনকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ইউএনও তানজিনা খাতুন।
আটক, সাইদুজ্জামান সুমন (৪২) বিরামপুর পৌর শহরের পূর্ব জগন্নাথপুর মহল্লার মো. জামানের ছেলে। তিনি বিরামপুর পৌরশহরের নতুন বাজার এলাকার সুমন ফটোকপি অ্যান্ড টেলিকম নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। অপরজন মনির হোসেন (৫১) মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের ধীৎপুর এলাকার সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। তিনি বর্তমানে বিরামপুর পৌরশহরের অস্থায়ী বাসিন্দা ও শহরের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। তিনি জাল নাগরিকত্ব সনদধারী মুহিম হোসেন রোহানে বাবা।
(ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক তানজিনা খাতুন বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে সাইদুজ্জামান সুমন নামের এক ব্যক্তি মুহিম হোসেন রোহান নামের একজনের নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি ফাইল জমা দেন। পরে, ওই দফতরের স্ক্যানিং অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অপারেটর প্রান্ত কুমার ফাইলে সংযুক্ত কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় মুহিম হোসেন রোহানের নামে বিরামপুর পৌরসভার প্যাডে প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদে পৌরসভার প্রশাসক তানজিনা খাতুনের স্ক্যানিং করা স্বাক্ষর ও সনদে কিউআর কোডটি জাল বলে শনাক্ত করেন। বিষয়টি তিনি ইউএনওকে অবহিত করেন। পরে, ইউএনও অভিযুক্ত সাইদুজ্জামান সুমন ও মুহিম হোসেন রোহানের বাবা মনির হোসেনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন বলেন, বিরামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে নাগরিকত্ব সনদ তৈরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে বিরামপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে বিরামপুর থানায় জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের শুক্রবার দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হবে।
সময়ের আলো