দিনাজপুরের বিরামপুরে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে মহাসড়কে পড়ে ট্রাকচাপায় রুমি আক্তার (২৮) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী মাহমুদুল হাসান (৫০), ছেলে আবদুর রহমান, (৭) ও মারিয়া মাহরিন (১১ মাস) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে বিরামপুর পৌরশহরের জনতা ব্যাংকের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী মাহমুদুল হাসান (৫০) দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত মাসে একমাসের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নবাবগঞ্জের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে মোটরসাইকেলে করে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন মাহমুদুল হাসান। পথে বিরামপুর পৌরশহরে জনতা ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে আঞ্চলিক মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলায় সেখানে যানজট ছিল। এ সময় বিপরীত দিকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাককে পাশ কাটার সময় পেছনে থাকা একটি মাছের পোনাবাহী একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং মোটরসাইকেলের পেছনে সিটে বসে থাকা রুমি আক্তার তার কোলের শিশুসহ সড়কের ওপর ডানপাশে ও স্বামী মাহমুদুল হাসান ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলসহ বা পাশে পড়ে যান। এসময় পেছন থেকে আসা অপর একটি মালবোঝাই ট্রাক রুমি আক্তারের শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার শরীর নিচের অংশ থেঁতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আর কোলের শিশুটির একটি পা ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা ঘটনায় আহত স্বামী মাহমুদুল হাসান ও তার দুই সন্তানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু মারিয়া মাহরিনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন বলেন, বিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় রুমি আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর ট্রাকচালক ট্রাক রেখে পালিয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন