গাজীপুরের শ্রীপুরে বদ্ধ জলাশয়ে ডুবে জুনাইদ (১০) ও ইউসুফ (১০) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুলাইদ গ্রামের ইলিমবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুনাইদ মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মামুন মিয়ার ছেলে। সে মুলাইদ গ্রামের সুলতান উদ্দিনের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। জুনাইদ স্থানীয় তফুর উদ্দিন সরকার মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপর নিহত ইউসুফ ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার এমদাদুল হকের ছেলে। সেও মুলাইদ এলাকায় কাজল মিয়ার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। ইউসুফ স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা-মা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর থেকে শিশু দুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বদ্ধ জলাশয়ের পাশে আবুল হোসেনের শাইল জমির উঁচু পাড়ে শিশু দুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি মাওনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জলাশয় থেকে ইউসুফ ও জুনাইদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, দুপুরের পর থেকেই শিশু দুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জলাশয়ের পাশে তাদের জুতা পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
তফুর উদ্দিন সরকার মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, এ এলাকায় আগে কৃষিজমি ছিল। অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় শত শত বিঘা জমি পানির নিচে থাকে। কৃষিকাজও করা যাচ্ছে না। আজ এই জলাবদ্ধতার কারণেই দুটি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জনজীবন ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার খায়রুল আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করি। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জলাশয় থেকে ইউসুফ ও জুনাইদ নামে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই