চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালভার্টের রেলিং ভেঙে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের রেলিং ভেঙে ও মুখে মাটি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প ও রাস্তা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

2026-09-08T19:17:17+00:00
2026-09-08T19:17:37+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালভার্টের রেলিং ভেঙে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম  আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ৭:১৭ পিএম
কালভার্টের রেলিং ভেঙে ও মুখে মাটি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প ও রাস্তা নির্মাণ। ছবি : সময়ের আলো
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের রেলিং ভেঙে ও মুখে মাটি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প ও রাস্তা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এছাড়াও গ্রামীণ সড়ক ও বেশ কিছু বসতবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে বিপা‌কে প‌ড়ে‌ছে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

Advertisement
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি মৌজায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে রাজস্ব খাতের আওতায় একটি পানি নিষ্কাশন জন্য কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কালভার্টের দুই পাশে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। ওই মহাসড়ক ব্যবহার করে ৪টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার গণপরিবহণ ট্রাক, বাস, ক্যাভার্ডভ্যানসহ মোটরসাইকেল রিকশা ভ্যান চলাচলের একটি মাত্র রাস্তা। কালভার্টের ভেতরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য উত্তর পাশে একটি খাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

ভূমিদস্যু ফারুক ও আজিমের নেতৃত্বে সরকারি কালভার্টের রেলিং ভেঙে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ, কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ডুবেছে রাস্তাঘাটসহ প্রায় ২০০ বিঘা ধান লাগানো জমি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পচে যাবে ধানগাছ, এতে ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকেরা। 


কৃষক নাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, ভূমিদস্যু ফারুক ও আজিম কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, দুর্ভোগে ৪টি গ্রামবাসী, তাদের বিরুদ্ধে আকাশ পরিমাণ অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই তিন মাস আগে অবৈধভাবে কৃষি জমি ভরাট করে কালভার্টের রেলিং ভেঙে কালভার্টের মুখে মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে আবাসিক আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ করেন তারা। এরপর থেকেই বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পুরো কৃষি জমি এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় মহাসড়ক ও স্কুলে যাওয়ার একটি মাত্র সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পাউলি উত্তর দক্ষিণের ধীনগর গ্রামের মানুষের পানিবন্দি হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আবাদি ফসলি জমির উপর জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক হাজার একর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আবাদি কৃষি জমি অবৈধভাবে ভরাট করে কালভার্টের রেলিং ভেঙে ও মুখ বন্ধ করে উত্তর পাশের রেলিং ভেঙে আবাসন প্রকল্পের সড়ক নির্মাণের কারণে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে আমরা সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ে গিয়েছি আমাদের দেখার কেউ নেই। প্রায় ২০০ বিঘা ধানি জমি পানির নিচে রয়েছে। এসব জমিতে এবার চাষাবাদ করা ফসল পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি জমি ডুবে যাওয়ায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি আমাদের জীবন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন ফারুক ও আজিম নামে দুই ভূমিদস্যু অবৈধভাবে রাতের আধাঁরে মাটি ভরাট করে ১০ থেকে ১৫ বিঘা আবাদি জমি ভরাট করে আবাসন ব্যাবসা করছে এবং উচ্চ দামে বসতবাড়ি হিসেবে বসবাসের জন্য বিক্রি করছে। তারা এলাকায় ভূমিদস্যু নামে পরিচিত এলাকায় তাদের ব্যাপক প্রভাব এই ঝিলিম ইউনিয়নে তাদের বিরুদ্ধে কারো মুখ খোলার সাহস নেই। সারাদিন সারারাত ফারুক তার ক্যাডার খোলার নিয়ে আবাসন প্রকল্পের পাশেই তার বাথানে চলে জুয়া মদ গাঁজার আসর দেখার কেউ নেই। তার বিরুদ্ধে গেলেই সাধারণ মানুষ কে বাহিনী ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। কিশোর গ্যাং বাহিনী দিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তার টর্চার শেলের বাথানে নির্যাতন করা হয়।


কালভার্টের মুখ আটকে আবাসন প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট, জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। ওই এলাকার আরেক কৃষক শরিফ বলেন, আমার জমিতে পানি উঠায় কৃষিজমি ও আমগাছসহ বিভিন্ন গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমনের বীজতলাও নষ্ট হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় আমি এখন অনেক দুশ্চিন্তায় আছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পাউলি মৌজায় মহাসড়কের কালভার্টের পাশেই আবাদি কৃষি জমি ভরাট করে কালভার্টের রেলিং ভেঙে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ করে মাটি বিক্রি করছে। এতে হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি হুমকিতে রয়েছে। প্রতিদিন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এতে জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। আবাদ করা ধানি জমি ডুবে যাওয়ায় কেউ ফসল ফলাতে পারবেনা। লোক দেখানো নামমাত্র কালভার্টের নিচ দিয়ে রাস্তার নিচে ড্রেন নির্মাণ করেছে ভূমিদূস্যরা।

এ দিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন প্রশাসনের সব মহলকে ম্যানেজ করেই আমি মহাসড়কের কালভার্টের উত্তর পাশের রেলিং ভেঙেছি ও জলাবদ্ধতা যেন না হয় সে কারণে কালভার্টের ভেতর দিয়ে আমার আবাসন প্রকল্পের নিচ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেছি। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিনুর রহমান বলেন, সড়কের কালভার্টের রেলিং ভেঙে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে কৃষি জমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ করে কালভার্টের রেলিং ভেঙে রাস্তার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া এটা সম্পূর্ণ বেআইনি আমরা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, কালভার্টের রেলিং ভেঙে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য এসিল্যান্ড কে দায়িত্ব দিয়েছি। কালভার্টের রেলিং ভেঙে মুখ বন্ধ করে আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণের তদন্ত রিপোর্টের সত্যতা পেলে  আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। 

সময়ের আলো/জোই 
  বিষয়:   চাঁপাইনবাবগঞ্জ  সরকারি  কালভার্ট  রেলিং  আবাসন প্রকল্প  রাস্তা নির্মাণ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: