বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাল্লা-কুসম্বী শ্মশানের ঐতিহাসিক পুকুরটি দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ভূমিদস্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
আদমদীঘির পাল্লা-কুসম্বী মৌজায় জমিদার আমল থেকেই মৃতদেহ সৎকারের জন্য এই শ্মশানটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শ্মশানের চুল্লি সংলগ্ন ৩৭ শতক আয়তনের পুকুরটি সিএস খতিয়ানে জনসাধারণের ব্যবহার্য এবং এসএ রেকর্ডেও সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য এবং আরএস ১/১ খতিয়ানে জেলা প্রশাসক, বগুড়ার নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৬ সালে কুসম্বী গ্রামের জিল্লুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তার বাবা ১৯৭৪ সালে মোহিনী মোহন গোস্বামীর কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন—এমন একটি ভুয়া দলিল দেখিয়ে পুকুরটি জোরপূর্বক জবরদখল করেন। প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্মশান কমিটির লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করেন।
এর প্রতিকারে শ্মশান কমিটির পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর: ১৩৭৪৮/২০২৫) দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। সেই আদেশের প্রেক্ষিতে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি ও রেকর্ডপত্র যাচাই করেন।
যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, জিল্লুর রহমানের প্রদর্শিত ১৯৭৪ সালের দলিলের কোনো বালাম বই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নেই এবং দলিলটি বিতর্কিত। এরপর আদালতের মিস কেস নম্বর ১৩৭/XIII/২৬-২৭ মূলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত ২ সেপ্টেম্বর নামজারি কেসটি বাতিল করে ওই ৩৭ শতক জমির ওপর জিল্লুর রহমানের কোনো মালিকানা বা স্বত্ব নেই মর্মে প্রতিবেদন ও আদেশ দেন।
আদালত ও প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে শ্মশানের পুকুরটি জবরদখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সময়ের আলো/জোই