ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের কবলে পড়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ সড়ক এখন যেন ‘মৃত্যুকূপ’। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালুবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কগুলো আরও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চরমার্টিন, চরলরেন্স, চরফলকন ও পাটারীরহাটসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সংযোগ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল'সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কমলনগরের সড়ক ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপজেলা প্রকৌশল দফতরের তথ্য মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি সড়কে ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভেঙে পড়া কালভার্টগুলোতে আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজিরহাট-খায়েরহাট, চরফলকন-পাটারীহাট, চর কাদিরা ডাক্তার পাড়া বাংলা নেতা সড়ক, চরলরেন্স-খাসেরহাট, এবং লরেন্স-নবীগঞ্জ সড়ক। এছাড়া তুলাতুলী সড়কসহ বিভিন্ন রুটে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালুবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কগুলো আরও দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একই সাথে ৩৪টি কালভার্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
চরলরেন্স ইউনিয়ন আনোয়ার হোসেন ও বিকল্পধারার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ছিদ্দিক মিয়া বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে সড়কগুলো ধ্বংস হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া গুণে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনার পর যান চলাচল এখন বন্ধের উপক্রম।
এই বিষয়ে কমলনগর উপজেলার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী স্নেহাল রায় জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রকৌশল দফতরের সাথে আলোচনা চলছে। জনগণের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন