থুতনিতে দাগ, বাঁকা ছিটকানি— নেহার মৃত্যু ঘিরে রহস্য

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঘরের দরজার ছিটকানি বাঁকা। ১৯ বছরের নেহার থুতনির নিচে দাগ। মৃত্যুর আগে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের কথাও জানিয়েছেন স্বজনেরা। অথচ শ্বশুরবাড়ির

2026-09-08T12:23:39+00:00
2026-09-08T12:24:22+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
থুতনিতে দাগ, বাঁকা ছিটকানি— নেহার মৃত্যু ঘিরে রহস্য
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম  আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ১২:২৪ পিএম
নিহত সামিহা হাকিম নেহা। ছবি : সংগৃহীত
ঘরের দরজার ছিটকানি বাঁকা। ১৯ বছরের নেহার থুতনির নিচে দাগ। মৃত্যুর আগে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের কথাও জানিয়েছেন স্বজনেরা। অথচ শ্বশুরবাড়ির দাবি, নেহা আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

গেলো ১ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড়া এলাকার সোলেমান কন্ট্রাক্টর বাড়িতে মারা যান সামিহা হাকিম নেহা। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় থেমে যায় তার জীবন। সঙ্গে হারিয়ে যায় তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানও।

Advertisement
নেহার মা রুপা আক্তারের অভিযোগ, মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ফটিকছড়ি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় নেহার স্বামী মোহাম্মদ মারুফ পারভেজ (৩০) সহ দুজনকে আসামি করা হয়েছে।


মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নেহার সাথে?
সূত্রে জানা যায়, মারুফের সাথে প্রথম দফার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর নেহার মায়ের একান্ত আগ্রহে মারুফের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে মনোমালিন্য চলছিল।

নেহা ও মারুফকে কাছ থেকে দেখেছেন— এমন কয়েকজন স্বজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মারুফকে তার পরিচিত জনেরা ধার্মিক হিসেবে জানলেও তার আচরণে ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের প্রভাব ছিল প্রখর। তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ায়ও আসক্ত ছিলো মারুফ।

তারা আরও জানান, মারুফ তার জীবনে কোনো সমস্যা বা ব্যর্থতা দেখা দিলে এর দায় নেহার ওপর চাপাতেন। এমনকি নেহাকে বিয়ে করার কারণেই তার জীবনে একের পর এক ব্যর্থতা নেমে এসেছে— এমন কথাও বলতেন তিনি। নেহাকে ‘অভিশপ্ত মেয়ে’ ও ‘অপয়া’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে প্রায়ই রূঢ় আচরণ করতেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একপর্যায়ে নেহার মা মারুফকে টাকাও দিয়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানান।

শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিরোধ তৈরি হয়েছিল অনাগত সন্তান নিয়ে। স্বজনদের দাবি, সন্তান নেওয়া নিয়ে মারুফের অনাগ্রহ ছিল এবং গর্ভপাত করানো নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। মারুফ জোর করলেও নেহা এতে রাজি ছিলেন না বলে তারা জানান।

মৃত্যুর আগের দিন সকাল থেকেই মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন নেহা। মাকে তিনি বলেছিলেন, ‘এরা আমাকে বাঁচতে দেবে না।’ একই সঙ্গে স্বামী মারুফকেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। তবে স্বজনদের দাবি, এর জবাবে মারুফ নেহাকে বলতেন, ‘তুই মরে গিয়ে আমাকে মুক্ত করে দে।’

স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে নামাজ ও দোয়া নিয়ে নেহাকে অপমানজনক কথা বলতে শুরু করেন মারুফ। এ সময় মারুফের মা-ও ছেলের পক্ষ নিয়ে বলেন, ছেলে তো খারাপ কিছু বলেনি, নামাজের কথাই বলছে।


সেই ঘরে কী ঘটেছিল?
ঘটনার পরপরই উপস্থিত হয়েছেন এমন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, রাতে মারুফের ঘর থেকে চিৎকার শুনে আশপাশ থেকে তারা সেখানে ছুটে যান। গুরুতর অবস্থায় নেহাকে দেখে প্রথমে ফটিকছড়ি স্কয়ার ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এস এম সাইদুল আলম বলেন, নেহাকে মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর ইসিজি করে নেহার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তার থুতনির নিচে দাগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হতে পারে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, খবর পেয়ে সেদিনই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে দরজার ছিটকানি বাঁকা অবস্থায় পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত। দরজার বাঁকা ছিটকানি, থুতনির দাগ, মৃত্যুর আগে দাম্পত্য বিরোধ এবং সেই রাতের ঘটনাপ্রবাহ— এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই হয়তো স্পষ্ট হবে নেহার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

সচেতন মহলের একটাই দাবি, পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হারিয়ে যাওয়া সন্তানটিসহ নেহার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা— সত্যটা সামনে আসুক।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   থুতনিতে দাগ  বাঁকা ছিটকানি  নেহা  মৃত্যু ঘিরে রহস্য  রহস্য  মৃত্যু  সময়ের আলো  ফটিকছড়ি  চট্টগ্রাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: