প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রাজধানীর সবুজবাগে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন কাতারপ্রবাসী যুবক সিফাত উল্লাহ (২৭)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমিন হোসেন (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি জানান, সবুজবাগের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন নাফিজা শেখ নেহা। তার সঙ্গে সাজিদ ও জয়ের সম্পর্ক ছিল। এর বাইরে গোপনে সিফাতের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান নেহা। রোববার বেলা ৩টার দিকে মাদারটেকের বরইতলা এলাকায় ওই তরুণীর ভাড়া বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। এ সময় তার সেখানে আসার খবর পেয়ে আল আমিনের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন, রাজুসহ আরও কয়েকজন ওই বাসায় যান।
র্যাব জানায়, আল আমিনের সহযোগীরা বাসায় প্রবেশ করলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইয়াছিন ও রাজু আহত হন। পরে সবাই নিচে নেমে আসেন। তাদের পেছনে সিফাতও নিচে নেমে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় আল আমিনের সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। ইটের আঘাতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে আল আমিন তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এরপর সবাই মিলে তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সিফাতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। তারপর সোমবার রাত ২ টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে নেহার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।
সময়ের আলো/মহু