মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক পদে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়া এক সাবেক কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা গত ১৩ আগস্ট এক বছরের জন্য রামকান্ত সিংহকে একাডেমির পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। অথচ প্রায় সাত বছর আগে ২০১৯ সালের ১৩ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, একাডেমির উপপরিচালক থাকাকালে রামকান্ত সিংহের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থসংক্রান্ত অনিয়ম, অসদাচরণ, নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রম, দাপ্তরিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে ২০১৭ সালের ২ মে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। পরে ৬ নভেম্বর ২০১৭ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।
চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-৩ এ এ.টি. মামলা নং-৪০৯/২০১৯ এবং মামলা নং-৭১/২০২১ করেন।
এ নিয়োগের খবর প্রকাশের পরই প্রশ্ন উঠেছে, চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে আবারও একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে নিয়োগ পেলেন? নিয়োগের আগে তার চাকরির রেকর্ড, বিভাগীয় মামলার ফলাফল, বরখাস্তের আদেশ এবং প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের মামলার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত রেকর্ড যাচাই-বাছাইয়ের যে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, রামকান্ত সিংহের ক্ষেত্রে তা কতটুকু মানা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক রামকান্ত সিংহের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে দ্বিতীয়বার ফোন রিসিভ করে বলেন, এ বিষয়ে এখন কথা বলব না, আমি গাড়িতে-যানজটে আছি। মামলা চলমান রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে কথা বলব।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সরকারি মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর নম্বরেও কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত বরখাস্তের সাত বছর পর একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগের এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
সময়ের আলো/আতা