রাজধানীর সবুজবাগে বান্ধবীর বাসায় সিফাত উল্লাহ (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ৩টার দিকে সবুজবাগ আদর্শপাড়া বড়ইতলা ব্রিজ গার্মেন্টস গলির একটি বাড়ির ৫ম তলায় এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা বান্ধবী নাজিফা শেখ নেহা নামে এক তরুণী জানান, তিনি নিজে বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সিফাত উল্লাহ তার বন্ধু। কিছুদিনের মধ্যে তাদের বিয়ে করার কথা ছিল। আজই সিফাত উল্লাহ তার বাসায় গিয়েছিল। এরপর জয় নামে স্থানীয় এক যুবক ওই বাসায় যায়। নেহা জয়কে বড় ভাই ডাকতো। জয় সেই বাসায় যাওয়ার পর তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে জয়সহ তার সাথে থাকা ৫-৬ জন মিলে সিফাত উল্লাহকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। তখন নেহাই তাকে উদ্ধার করে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন সন্ধ্যায় সেখানে মারা যান সিফাতউল্লাহ।
বাসার নারী ভাড়াটিয়া হাসনা জানান, তিনিই একাই এক রুমে ভাড়া থাকেন। আর পাশের রুম সাবলেট ভাড়া দিয়েছেন নেহা নামে ওই তরুণীকে। আজ বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ফোনে এই ঘটনা শুনতে পান। পরে মুগদা হাসপাতালে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি জানান, নেহা নামে ওই তরুণী ১ জুলাই সাজিদ নামে এক ছেলেকে স্বামী পরিচয় দিয়ে ৫ম তলায় একটি রুম ভাড়া নেয়। এরপর জানতে পারি তারা স্বামী স্ত্রী না। প্রেমিক ছিল। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এরপর থেকে সিফাতউল্লাহ নেহার বাসায় আসা যাওয়া করত। তাদের মধ্যে কি সম্পর্ক তা জানা নেই।
সিফাতুল্লাহর বাবার নাম জয়নাল আবেদিন। তার বাসা যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় এলাকায়। ব্যবসায়ী তিনি। কাতার থেকে কিছুদিন আগেই দেশে এসেছেন।
আহত রাজিব ওরফে রাব্বি নামের এক অভিযুক্তের দাবি, ওই বাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা সেখানে গেলে সিফাতই প্রথম তাদের ওপর চড়াও হন। এবং ছুরিকাঘাত করেন। এরপর হাতাহাতির ঘটনায় দুজন আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সবুজবাগ থানায় অবগত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইয়াসিন ও রাব্বি নামে দুইজন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে
সময়ের আলো/টিকে