বরিশালের বানারীপাড়ায় সদর ইউনিয়নের কাজলাহার গ্রামে ৩২০ মিটার উঁচু একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক টাওয়ার সন্ধ্যা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার কাজলাহার গ্রামে বানারীপাড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘরামীর মালিকানাধীন শুভ ব্রিকসফিল্ডের ভিতরে ভাঙনকবলিত নদীর তীরে অবস্থিত ৩৩ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের ৫টি ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ সংযোগ যুক্ত করেছে। ওই ৫ ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের ত্রিশ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। ত্রিশ হাজার গ্রাহক পরিবারে সদস্যসংখ্যা লক্ষাধিক।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সন্ধ্যা নদীর ভাঙন তীরে বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙনকবলিত নদী ও বৈদ্যুতিক টাওয়ারটির দূরত্ব মাত্র ৩০/৪০ গজ। এছাড়া এখানে শুভ ও কাজী ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটাও রয়েছে ভাঙন ঝুঁকিতে। গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা নদীর এ অংশে ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে বৈদ্যুতিক টাওয়ার ও দুটি ইটভাটাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গ্রাস করে ফেলবে। ব্রিকস ফিল্ড মালিকসহ আরও অনেক স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী তাঁদের জীবনের সঞ্চয় ও মূলধন হারিয়ে রিক্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে আশপাশের ফসলি জমি ও লোকালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে। জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে পাঁচ ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সংযোগের এ মূল টাওয়ারটি যদি নদীতে বিলীন কিংবা ধসে পড়ে, তবে পুরো বাইশারী, ইলুহার, উদয়কাঠী, সৈয়দকাঠী ও বিশারকান্দি ইউনিয়নসহ আশপাশের বিশাল জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে।
অর্থাৎ, উপজেলার সিংহভাগ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে দুর্যোগের মতো বিপর্যয়ের সৃষ্টি করবে। এসব এলাকার লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ব্যাহত হবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বিদ্যাপীঠ ও চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাওয়ারটি নদীগর্ভে বিলীন হলে তা মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হবে। ফলে দীর্ঘ দিন এসব এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে টাওয়ারটির গোড়ায় জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। শুভ ব্রিকস ফিল্ডের পরিচালক জহিরুল ইসলাম সৌরভ জানান, গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভাঙনে বৈদ্যুতিক টাওয়ার ও নদীর দূরত্ব এখন মাত্র কয়েক গজের। টাওয়ারটি নদী গর্ভে ধসে পড়লে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটবে। বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের কাজলাহার ও ব্রাক্ষ্মণকাঠীগ্রামসহ নদীর অপর পাড়ের ৫টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
এছাড়াও ক্রমশ তাদের ইট ভাটাও নদী গ্রাস করে ফেলছে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম ও এজিএমকে জানানোর পরে দু-দিন আগে তারা এসে সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন।
এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি নদীর ভাঙন ঝুঁকিতে থাকার খবরে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিদ্যুৎ বিপর্যয় এড়াতে টাওয়ারটি রক্ষায় নদীর ভাঙনরোধে আপাতত জিও ব্যাগ ফেলাসহ পরবর্তীতে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২'র আওতাধীন বানারীপাড়া সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. আল আমিন বলেন, বিষয়টি জেনে তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নদীর ওপারে ৫ ইউনিয়নে তাদের ত্রিশ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নদী ভাঙনের হাত থেকে বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবো। নদীর ভাঙন তীরবর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি রক্ষার জন্য আপাতত জিও ব্যাগ ফেলাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে রোববার দুপুরে কথা বলেছি। প্রয়োজনে টাওয়ারটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সময়ের আলো/আতা