ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে দরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ রূপালী বেগম (৪৪)। তার চার মেয়ে এবং এক পুত্র সন্তান, সেও সবার ছোট। স্বামী মো. ইব্রাহিম নির্মাণ শ্রমিক। আড়াই বছর পূর্বে রূপালী বেগম ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। তখন থেকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয় তাকে। চিকিৎসক তাকে পাঁচটি কেমো থেরাপির নির্দেশ দেন। অর্থাভাবে তিনটি দিতে পারলেও তা আর দেওয়া সম্ভব হয়নি।
দুই মাস আগে তার পেটে একটি ছোট টিউমার ধরা পড়ে। আর্থিক চরম সংকটের কারণে প্রথমেই চিকিৎসা নিতে পারেনি। টিউমার ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে, সেই সাথে ভিতরে জ্বালা যন্ত্রণাও বাড়তে থাকে। উপায় না পেয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে সেখানে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে পেটের টিউমার পেকেছে, সেই সাথে ভিতরের নাড়িতেও প্যাঁচ লেগেছে বলে চিকিৎসক জানান।
নির্মাণ শ্রমিক ইব্রাহিম স্ত্রীর ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল যা ছিলো তা প্রায় শেষ করেছেন। স্ত্রীর পুনরায় বড় ধরনের চিকিৎসা করাতে হবে শুনে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে অপারেশন করান।
অপারেশনের পরে চিকিৎসক রোগীর পেটে বাইপাস করে ব্যাগ সংযুক্ত করে ৭ আগস্ট ছাড়পত্র দিয়েছেন। বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে আছেন রূপালী বেগম। রোগীর দেহে লবণের ঘাটতি আছে জানিয়ে দুই মাস পরে আবার চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিমে যেতে বলেন। বিছানাতে শুয়ে অসহায়ত্বের কথা এভাবেই প্রকাশ করেন রুপালী বেগম।
তিনি আরও জানান, পেটে ব্যাগ ও ব্যান্ডেজ থাকার কারণে চিত হয়েই শুয়ে থাকতে হচ্ছে এই এক মাস। একটু কাত হতেও পারছি না। স্বামীর যা ছিলো তা ইতোমধ্যে শেষ, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ঋণ এবং সহযোগিতাও নেয়া হয়েছে। এখন আমার সুস্থতার জন্য একমাত্র আল্লাহই ভরসা। ছোট মেয়ে দুটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে এবং একমাত্র ছোট ছেলেটিও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। অর্থাভাবে ওদেরও স্কুলে যাওয়া বন্ধ। ছেলেটি এখন ডাব নারিকেল কেটে তা বিক্রি করে উপার্জনের টাকা দিয়ে সংসারে সহায়তা করছে।
সন্তানরা জানায়, আমার আম্মু খুবই অসুস্থ। তাকে ওষুধ খাইয়ে আমাদের তিনবেলা শাক-ভাত খেতেই কষ্ট হচ্ছে। স্কুলেও যেতে পারছি না।
ইব্রাহিম জানান, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার পরিচালনা স্বাভাবিকভাবে চলছিল। বাঁশ-টিনের জরাজীর্ণ ঘরটিও সংস্কার করাতে পারিনি। স্ত্রীর অসুস্থতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে একদমই নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। যদি কোনো স্বহৃদয়বান ব্যক্তি তার চিকিৎসার জন্য সহায়তা করেন, তাহলে সে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন ফিরে পাবে। সহায়তার জন্য যোগাযোগ ০১৯৯৫২৪৭৬৩৫ ও ০১৯৩৩৪০০০৯৬ নম্বরে।
সময়ের আলো/আতা