হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা মক্তব শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত শিশুরা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

সারাদেশ

গ্রামের ভোরের সেই মধুর সুর আর শোনা যায় না। ‘আলিফ-বা-তা’ আর ‘কালিমা তায়্যিবা’র ধ্বনিতে মুখরিত হতো না জনপদ। শত সহস্র

2026-09-06T22:24:14+00:00
2026-09-06T22:24:14+00:00
 
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা মক্তব শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত শিশুরা
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম 
মক্তব। ছবি : সময়ের আলো
গ্রামের ভোরের সেই মধুর সুর আর শোনা যায় না। ‘আলিফ-বা-তা’ আর ‘কালিমা তায়্যিবা’র ধ্বনিতে মুখরিত হতো না জনপদ। শত সহস্র বছরের ঐতিহ্য বহনকারী কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র ‘মক্তব’ আজ হারিয়ে যাচ্ছে চিরায়ত বাংলা থেকে।

একসময় ফজরের আজানের পরপরই কচি-কাঁচা শিশু-কিশোরদের হাতে কায়দা-আমপারা নিয়ে মক্তবমুখী ছুটতে দেখা যেত। মসজিদের বারান্দায়, ঘরের এক কোণে বসে ইমাম-মুয়াজ্জিনের কাছে কোরআন তেলাওয়াত শিখতো তারা। 

Advertisement
গ্রাম বাংলার একসময়কার ঐতিহ্য ছিল— কোরআন শুদ্ধ করে জানে এমন মেয়েই হবে ঘরের লক্ষ্মী। যাতে পরিবার-সংসার কোরআনের বরকতে আলোকিত হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহ্যও আজ মুছে যাচ্ছে মুসলিম সমাজ থেকে।

মুসলিম পরিবারে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রথম পাঠশালা ছিল এই মক্তব। এখানেই কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ জীবনের প্রয়োজনীয় মাসয়ালা-মাসায়েল শেখানো হতো। ইহকালের শান্তি ও পরকালের নাজাতের পথ দেখানো হতো এখান থেকেই।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা এ শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে মর্নিং শিফট চালু হওয়ায় মক্তবের সময়ের সঙ্গে সংঘাত বাঁধছে। ফলে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী মক্তবের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আকবরিয়া জামে মসজিদের শিক্ষার্থী মিমজানা আক্তার চৌধুরী রিম বলেন, আগে ভোরে উঠে মক্তবে গিয়ে কোরআন পড়তাম। এখন স্কুলের পড়ার চাপে সময় পাই না। মক্তব না থাকলে আমরা কোরআন শুদ্ধ করে শিখবো কীভাবে? ছোটোবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা জরুরি।


মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক এমদাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, মক্তবই ছিল মুসলিম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার মূল ভিত্তি। স্কুলের মর্নিং শিফটের কারণে বাচ্চারা এখন মক্তবে আসতে পারছে না। ফলে তারা কালিমা, নামাজের নিয়মও ঠিকমতো শিখছে না। এই ধারা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম ধর্মীয় জ্ঞান থেকে অনেক দূরে সরে যাবে।

পতনঊষার আকবরিয়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক বায়তুল হক চৌধুরী বলেন, সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে মক্তব শিক্ষার বিকল্প নেই। অভিভাবকদের উচিত স্কুলের পাশাপাশি সন্তানদের মক্তবে পাঠানো। সরকার ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যাতে আমাদের ঐতিহ্য টিকে থাকে।

স্মৃতির পাতায় এখনো দাগ কাটে সেই শৈশবের দিনগুলো। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম দিন দিন সেই ধর্মীয় আলোর পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   মক্তব  শিক্ষা  ধর্ম  জ্ঞান  আলো  বঞ্চিত  শিশু  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: