প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ১২:০৭ এএম
কেওতা ঘিগড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা। ছবি : সময়ের আলো বৃষ্টি এলেই ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে। ছাদে পলিথিন দিয়ে চলছে তাই পাঠদান। রাজাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কেওতা ঘিগড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বিজ্ঞান ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পাশাপাশি টেবিল-চেয়ার ও বেঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদরাসায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোর সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় মাদরাসাটিতে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কেওতা ঘিগড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা। এটি রাজাপুর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী, ২৯ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো পর্যাপ্ত না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিদিনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোবাশ্বের হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো ভবনগুলো অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞান ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। পলিথিন দিয়ে কোনোভাবে পানি ঠেকিয়ে পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এমতাবস্থায় একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ হবে।
এ বিষয়ে গণিত শিক্ষক অনিক আহম্মেদ বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদানের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
আইসিটি শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা জরুরি। নতুন একাডেমিক ভবন হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোয়াইব, আলিম, সুমাইয়াসহ মাদরাসার একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কে থাকি। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।
এদিকে মাদরাসাটির একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। ১৮ আগস্ট দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ ও অনগ্রসর পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। চিঠিতে এই মাদরাসার জন্য একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সময়ের আলো/এনএন