প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
ছবি : সময়ের আলোভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ মেট্রিক টন চালের কিছু অংশের পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান ‘আলফাটক্সিন’ থাকার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এই তথ্য জানিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. সাকিব রেজওয়ান।
শুক্রবার রাতে তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ১৩৫ টন খাদ্যে আলফাটক্সিন পাওয়া গেছে কিনা জানি না। তবে ভারত থেকে আমদানি করা কিছু চালের বস্তায় আলফা টক্সিন পাওয়া গেছে শুনেছি। আমার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। বিষয়টি খাদ্য অধিদফতর থেকে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে করে ভারত থেকে এসব চালগুলো আমদানি করা হয়। বন্দরে পৌঁছার পরদিন নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় চাল খাবার উপযোগী প্রতিবেদন পাওয়ার পর গেল ২৪ ও ২৫ জুলাই তা খালাসও করা হয়। পরে চালের একটি অংশ ঢাকার তেজগাঁও সিএসডি, চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডি ও দেওয়ানহাট সিএসডি এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর স্থানীয় খাদ্যগুদামে (এলএসডি) পাঠানো হয়।
গুদামে পৌঁছানোর পরই চালের নিম্নমান দেখে আপত্তি জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। খাবারের অনুপযোগী মনে হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদাররা এসব চাল পরিবহন স্থগিত রাখেন। পরে চালের মান নিয়ে আপত্তির বিষয়টি লিখিতভাবে খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। এরপর এসব চালের মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাচাই করতে দুই সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে পৌঁছে।
গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামে পৌঁছা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তি। তারা হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির কয়েকটি স্তূপ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তারা সন্দেহ করেন হালিশহর সিএসডির আমদানি চালে আলফাটক্সিন আছে বলেও জানায় খাদ্য বিভাগ।
চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক মো. সাকিব রেজওয়ান আরও বলেন, হালিশহর সিএসডির চালে আলফাটক্সিনের অস্তিত্ব¡ পাওয়ার বিষয় শুনেছি। এ বিষয়ে আরও যাচাই করার কাজ চলছে। অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে কী পরিমাণে কতটুকু পাওয়া গেছে, আদৌ পাওয়া গেছে কিনা নিশ্চিত হতে সময় লাগবে।
সময়ের আলো/আতা