টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ-ভারতের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ৩৭৭টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বিভিন্ন আমদানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এতে ধর্মঘটের প্রত্যাহারের পর তিন দিনে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে।
এর আগে, ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ৩০ আগস্ট হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ-ভারতের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। আমদানি-রফতানি বন্ধের শেষ দিনে মাত্র ৩৩টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছিল।
পরে শনিবার সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হলে প্রথম দিনেই ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য সহ ১২৪টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। রেকর্ড পরিমাণ পণ্য আমদানির ঘটনায় আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
রোববার রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হিলি স্থলবন্দর ও শূন্য রেখা পরিদর্শন ও দুই ব্যবসায়ী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় এবং মতবিনিময় সভা করেন। বৈঠকে তিনি বলেন ভারত বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। ওই দিন ১২৪ টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় দিনে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ভারতীয় ১৩৯ টি ভারতীয় ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য পণ্য হচ্ছে গম। দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাহিলি সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মন্ডল জানান, এতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দরের ব্যবসায়ী, বন্দরের শ্রমিকদের আয় ও বন্দর সংশ্লিষ্ট দোকান পাঠ সবার আয় বৃদ্ধি সহ জীবন যাত্রার মান বাড়বে।
তিনি জানান, ভারতীয় হিলি ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরে তৃতীয় দিন পর্যন্ত মোট ৩৭৭টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রথম দিনে ১২৪ টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে এবং এক্সপোর্ট হয়েছে ৩৬ টি ট্রাক।
বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আমরা সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমদানি-রফতানি কারক গ্রুপের সদস্যরা ভারতীয় ব্যবসায়ী, বন্দর সংশ্লিষ্ট নানা পেশার লোকজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম ও আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
হিলি বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন জানান, কয়েক দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বন্দরের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সাথে শ্রমিক বন্দর সংশ্লিষ্ট সকলে মানবেতর জীবনযাপন করেছে। দীর্ঘ দিন পরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করার পরে বন্দর দিয়ে উল্লেখযোগ্য পণ্য আমদানি ও রফতানি হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা