সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অনলাইন প্রতারণার বিভিন্ন ডিভাইসসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে দিবাগত গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল সরঞ্জাম।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সিএমপির দামপাড়া এলাকার মিডিয়া সেন্টারে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
এতে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে অভিযান শুরু করা হয়। খুলশী থানা এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে খুলশী থানা পুলিশও অংশ নেয়।
এসময় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের দুবাই প্রবাসীর ১ নম্বর বাড়িটি ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
এছাড়াও, বাংলাদেশে তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানকারী দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে। এসব সহযোগীদের মধ্যে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামি চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃত এবং সহযোগী অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে বর্ণিত স্থানে অবস্থান করে। এভাবে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির সাথে জড়িত। প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ, আইনানুগ কর্তৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশন পরিচালনা করে আসছে। এর মাধ্যমে না ধরনের অপরাধ সংঘটন করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান গেছে।
তাদের কাছ থেকে বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে আছে পুরাতন ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৩৪ টি মোবাইল ফোন, পুরাতন ব্যবহৃত অ্যাপল ব্র্যান্ডের একটি ট্যাব, পুরাতন ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি সাদা রঙের সিপিউ, একটি কালো রঙের স্যামসাং ব্র্যান্ডের মনিটর, একটি পুরোনো কি বোর্ড, একটি পুরোনো মাউস, একটি পুরাতন ব্যবহৃত কালো রঙের প্রিন্টার, পাঁচটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পেনড্রাইভ, চারটি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি কম্বোডিয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কার্ড।
সময়ের আলো/আতা