প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম আপডেট: ১১.০৯.২০২৬ ৬:৫৮ পিএম
কেউ কেউ খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ছবি : সময়ের আলো কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে ধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যার সময়ে চাহিদামতো ইউরিয়া সার না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। কয়েক দিন ধরে ডিলারের দোকানে ঘুরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, দুই-তিন দিন ডিলারের দোকানে ঘোরার পর ১০ কেজি করে ইউরিয়া সার দেওয়া হচ্ছে। জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেয়ে কেউ কেউ খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত খরচসহ সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে ফুলবাড়ীতে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৫৯৫ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৬৪ মেট্রিক টন। উপজেলার সাতজন বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে এসব সার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ডিলারের জন্য ৫২ মেট্রিক টন করে সার বরাদ্দ রয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে রয়েছেন দুজন ডিলার।
কৃষকদের দাবি, ডিলারদের পাশাপাশি উপজেলার বড় বাজারগুলোর অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমেও সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে তাদের ভোগান্তি কমবে। এতে প্রয়োজনের সময়ে নির্ধারিত দামে সার সংগ্রহ করা সহজ হবে।
ইউরিয়া সারের পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সংকটেও বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় অনেক জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় এতে উৎপাদন খরচও বাড়ছে। পানির ঘাটতির কারণে জমিতে রোগবালাই দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষকেরা।
তবে বিসিআইসি ডিলারদের দাবি, তারা বরাদ্দ অনুযায়ীই সার বিতরণ করছেন। অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার কিনে বাড়িতে মজুত করছেন। এ কারণে কোনো কোনো সময় সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে সার নিতে এসে অনেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কিছু জমিতে সেচের প্রয়োজন হচ্ছে। ইউরিয়া সারের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের প্রয়োগ অনেক কৃষক ইতোমধ্যে শেষ করেছেন। যেসব এলাকায় এখনো সারের প্রয়োজন রয়েছে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেসব এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষকেরা বলছেন, বরাদ্দ থাকার পরও প্রয়োজনের সময়ে চাহিদামতো সার না পেলে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই দ্রুত সার বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/এনএন