রংপুরে আগাম আলু চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা

রংপুর ব্যুরো

সারাদেশ

আগের দুই মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি। উৎপাদন ব্যয়

2026-10-27T18:37:36+00:00
2026-10-27T18:37:36+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রংপুরে আগাম আলু চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম 
ভালো দামের আশায় রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি। ছবি : সময়ের আলো
আগের দুই মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারদরের অনিশ্চয়তা থাকলেও আগাম আলুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় মাঠে নামছেন কৃষকেরা। এদিকে বীজ আলুর বিক্রি বাড়াতে ডিলারদের জন্য প্রতি কেজিতে এক টাকা ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহ এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

বিএডিসি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় সংস্থাটির অনুমোদিত ডিলার রয়েছেন ৮১৩ জন। চলতি মৌসুমে এসব জেলায় ৪ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বীজ আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৭৯ জন ডিলার প্রায় ৯৬০ মেট্রিক টন বীজ আলু সংগ্রহ করেছেন। বিক্রি বাড়াতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ডিলারদের জন্য প্রতি কেজি বীজ আলুতে এক টাকা ছাড় ঘোষণা করেছে বিএডিসি।

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মাসুদ সুলতান বলেন, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে আগাম বুকিং দিয়ে ডিলাররা বীজ আলু সংগ্রহ করেন। বীজ বিক্রি বাড়াতে ডিলারদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

আগাম আলু চাষে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা

আগের মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে উঠতে আগাম জাতের আলু চাষের পরিকল্পনা করছেন রংপুর অঞ্চলের অনেক কৃষক। রংপুর সদর উপজেলার কৃষক জুয়েল হোসেন তাদের একজন। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কাটার পর একই জমিতে আলু রোপণ করবেন। এজন্য জমি পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

জুয়েল হোসেন বলেন, আগের মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার আগাম আলু চাষের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বীজের দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা কমলেও সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। তাই ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষকদের প্রত্যাশা, আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হতে পারে।

বীজের দামে স্বস্তি, উৎপাদন ব্যয়ে বাড়তি চাপ

চলতি মৌসুমে বীজ আলুর দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবহন ব্যয়, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের মোট খরচ বাড়ছে।

রংপুরের কৃষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, তিনি সানশাইন ও বারি-৭ জাতের আলু রোপণ করছেন। গত বছরের তুলনায় বীজের দাম কমলেও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। গত বছর এক ট্রলি গোবর সার এক হাজার টাকায় কিনেছিলেন, এবার তা কিনতে হচ্ছে এক হাজার ২৫০ টাকায়। এর সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও সার সংগ্রহের ভোগান্তিও রয়েছে।

অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলার বাহাগীলি গ্রামের কৃষক শহিদুর রহমানের ১০ বিঘা জমিতে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপণের কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিক সরদার আলিম উদ্দিন জানান, আগাম আলু রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। গত বছর এক বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণের মজুরি ছিল এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এবার তা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি আয় করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা

চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এ থেকে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ মেট্রিকটন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আলু উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগাম আলু চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন ন্যায্যমূল্য

রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষকের জীবিকায় আলু চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, আগাম আলুর ভালো ফলন ও বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে আগের মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন কৃষকেরা। বিএডিসির বীজে ছাড় এবং কৃষি বিভাগের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগও এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করাই হবে নতুন মৌসুমে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান শর্ত।

সময়ের আলো/এনএন


  বিষয়:   রংপুর  আলু চাষ  ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: