রাজশাহীতে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ছবি : সংগৃহীতবিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু হত্যা মামলার তদন্তে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজশাহীতে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এদের মধ্যে দুইজন আসামি ও একজন সাক্ষী রয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদ করা তিন কারা কর্মকর্তা হলেন- রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। এদের মধ্যে বজলুর রশীদ ও শফিকুল ইসলাম এ মামলার আসামি। হালিমা খাতুন মামলার সাক্ষী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান পিন্টু। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তার পরিবার এ মৃত্যুকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তার ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন রিন্টু বাদি হয়ে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হত্যা মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেন পিবিআইকে।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাজি সেলিম, ইরফান সেলিম এবং তৎকালীন কারা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সৈকত হাসান বলেন, জিআর মামলার ক্ষেত্রে আমরা আসামিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। কিন্তু সিআর মামলায় গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না। এটি সিআর মামলা। তদন্তের স্বার্থে মামলার দুই আসামি ও এক সাক্ষীকে ডাকা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদশেষে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
মামলার বর্তমান অবস্থা সর্ম্পকে তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আদালত প্রথমে যে সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে পার হয়েছে। পরে তিনি সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপেক্ষিতে আদালত সময় বাড়িয়েছেন। বর্তমানে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত মামলার বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ্য, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৯ সালের ৩ জুন পিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, রিমান্ডে নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে।
এজাহার অনুযায়ী, পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা স্বামীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত নিজ খরচে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আই হসপিটালে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ এবং পরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২ মে আদালতের চিঠি পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক রইছ উদ্দিন কারাগারে যান। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে পিন্টুর চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরদিনই কারাগারে তার মৃত্যু হয়। পিন্টুর মৃত্যুকে সে সময় স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের বক্তব্য, চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগসহ মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/এনএন