চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১০ বছরের এক শিশুসহ দুজন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান। তার বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায়। বর্তমানে নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদের তুলাতলি এলাকায় থাকেন।
আহত শিশুর নাম রাহাত (১০)। একই সময় দুর্ঘটনায় আবদুর রহামন নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। আহত দু’জনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি রেললাইনের ওপর থাকা এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একজন নিহত ও এক শিশু আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আছেন। আহত ১০ বছর বয়সি ওই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময় আরেক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে আবদুর রহমান (৩০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকেও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুমার নামাজ শেষে রেললাইনের পাশে দুই শিশুকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। তার মধ্যে একটি শিশু হাত ছেড়ে সামনে এগিয়ে যায়। এসময় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে আসে। রেল লাইনের পাশে একটি ভবনে কর্মরত মিন্টু শিশুটিকে বাঁচাতে দৌড়ে এগিয়ে যায়। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে মিন্টু ঘটনাস্থলে নিহত হন বলেও জানান তিনি।
শিশু রাহাত গুরুতর আহত হয়। শিশুটির হাত পা কেটে গেছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। রাহাত নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ২ নম্বর গেট এলাকার আবদুল মালেক সাহেবের বাসার মো. ফারুকের ছেলে।
ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, রেল স্টেশন মসজিদে জুমার নামাজের পর ২০ টাকা নিয়ে চটপটি খেতে বের হয়েছিল রাহাত। মুহূর্তে ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত হন। তার একটি হাত ও পা নেই। বর্তমানে চমেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা