জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের আশ্বস্ত করলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে জানতেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনি নিজেই জানতেন, তাদের কোথায় রাখা হয়েছে। এভাবে অভিনয় করে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বহু মানুষকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। স্ত্রী ও মায়ের সামনে থেকে স্বামী ও সন্তানকে তুলে নিয়ে পরে হত্যা এবং মরদেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্যে এসব ঘটনা উঠে আসছে বলে জানান তিনি। এখনও অনেক মা-বাবা নিখোঁজ সন্তান ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করছেন। অথচ তাদের সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছেন। সরকারকে খুশি করা এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পুলিশ এসব করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন-চাপরাশি পর্যন্ত অনেকেই পালিয়ে গেছেন। প্রধান বিচারপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমামও পালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ৬৮৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল। সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সময়ের আলো/জেডি