বিশ্বদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় হচ্ছে সম্পর্ক

এসএম আলমগীর

জাতীয়

দাতা সংস্থাগুলো আবারও বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাইকা, ইউএসএইড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সব বড় দাতা সংস্থাই এখন বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেশ

2026-09-14T00:31:07+00:00
2026-09-14T00:31:07+00:00
 
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
বিশ্বদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় হচ্ছে সম্পর্ক
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দাতা সংস্থাগুলো আবারও বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাইকা, ইউএসএইড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সব বড় দাতা সংস্থাই এখন বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেশ হিসেবে দেখছে। মূলত তিনটি কারণে দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে— জনসংখ্যার ডিভিডেন্ড, ১৮ কোটি মানুষের বড় বাজার, জলবায়ু ঝুঁকি-বৈশ্বিক জলবায়ু ফান্ডের বড় অংশ এখন বাংলাদেশে এবং দেশের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধিও দাতাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। 

জিডিপিতে স্থিতিশীলতার কারণে বছরে গড় ৬ শতাংশের কাছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণের প্রতিশ্রুতি রেকর্ড ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

এদিকে অন্যতম আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং ফান্ডের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল আগামী মাসে আবারও আসছে বাংলাদেশে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা ও সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি দেখতেই মূলত আইএমএফের ওই উচ্চ পর্যায়ের টিম অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আবার বাংলাদেশে আসবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, টিমটি ১০ দিন থাকবে। তাদের মূল কাজ হবে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে শর্তগুলো কতটুকু পূরণ হলো তা যাচাই করা। একই সঙ্গে নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন ঋণ নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে বিএনপি সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের বাড়তি পরিশোধের চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে। 

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে পরিশোধ করা এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎকালে কোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে সরকারের ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের ঘাড়ে আগের ঋণের চাপ রয়েছে অনেক। এসব ঋণ পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ অবস্থায় নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এতে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। এ কারণে সরকারের খরচের দ্বিতীয় শীর্ষ খাতে পরিণত হয়েছে ঋণ পরিশোধ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এখন ঋণ পরিশোধে আমাদের নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে। ফলে আমরা বিপজ্জনক এক ঋণঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছি। এ ছাড়া বিদেশি ঋণের সুদ বাড়ছে। তবে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে— এটি ভালো দিক।’

সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এই প্রথমবারের মতো সরকারের অভ্যন্তরীণ পুঞ্জীভূত ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।


একই সঙ্গে বিদেশি ঋণের স্থিতিও দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সবশেষ গত মার্চের শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৯১ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। 

সরকারের বিদেশি ঋণের জুন পর্যন্ত সবশেষ হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গত অর্থবছর শেষে বিদেশি ঋণের স্থিতি কোথায় দাঁড়িয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ঋণের স্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি এখন প্রায় সমান সমান। দেশি-বিদেশি ঋণ মিলিয়ে সরকারের কাঁধে এখন প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা। ঋণ যত বাড়ছে, ঋণের সুদের চাপও তত বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের এখন বড় খরচের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ, সেটি দেশি ঋণ হোক বা বিদেশি ঋণ হোক। উভয় ক্ষেত্রেই সুদ পরিশোধে সরকারকে বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে শুধু ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭৭ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত থেকে গত অর্থবছরে সরকারের নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল ৪২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

দাতা সংস্থাগুলো নতুন করে কে কত ঋণ দিচ্ছে : এই অবস্থার মধ্যেও বিভিন্ন দাতা সংস্থা বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে। যেসব দাতা সংস্থা ২০২৬ সালে ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে বিশ্বব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থ সংস্থাটি দেবে বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে। আরেক দাতা সংস্থা এডিবি দেবে ২.৮ বিলিয়ন ডলার। 

এডিবির এই অর্থ ব্যয় হবে অবকাঠামো, জ্বালানি ও এসএমই খাতে। জাপানি দাতা সংস্থা জাইকা দেবে ১.৯ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ ব্যয় হবে মেট্রোরেল, বন্দর ও কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে। আরেক শীর্ষ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ দেবে ১.৩ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ মূল বাজেট সহায়তা এবং রাজস্ব সংস্কারে ব্যয় হবে। 

এ ছাড়া ইইউ দেবে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো। তাদের অর্থ ব্যয় হবে সবুজ শিল্প, নারী উদ্যোক্তার মান উন্নয়নে। আর ইউএসএআইডি দেবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার। ব্যয় হবে খাদ্য নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে। এভাবে ঋণদাতা ও দাতা সংস্থাগুলো মোট ১১.৭ বিলিয়ন ডলার দেবে, যা গত বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

কেন দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশমুখী : মূলত বড় চারটি কারণে দাতা সংস্থাগুলো এখন বাংলাদেশমুখী। প্রথমত কারণ হচ্ছে জলবায়ু। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০ দেশের ১ নম্বরে বাংলাদেশ। তাই এখন বাংলাদেশের বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা প্রকল্পে তারা অর্থায়নে এগিয়ে আসছে। দ্বিতীয়ত মধ্যম আয়ের দেশের সেতুবন্ধন। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার পথে। 

দাতারা এখন গ্রান্টের বদলে স্বল্প সুদের ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, যেন বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তৃতীয়ত ডিজিটাল ও মানবসম্পদের সম্ভাবনা। দেশে এখন ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। তরুণ জনশক্তি। এডিবি ও ইউএসএআইডি এখন ডিজিটাল স্কিল, স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তা খাতে ফান্ড দিচ্ছে। চতুর্থত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ সবাই অবকাঠামো ও বাণিজ্য দিয়ে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।

আগামী মাসে আসবে আইএমএফের টিম : বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা ও সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি দেখতে আইএমএফের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আবার বাংলাদেশে আসছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, টিমটি ১০ দিন থাকবে। তাদের মূল কাজ— ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে শর্তগুলো কতটুকু পূরণ হলো তা যাচাই করা।

আইএমএফ টিমের আগামী বাংলাদেশ সফরের পেছনে অন্যতম বড় তিনটি কারণ রয়েছে। এর প্রথমটি হচ্ছে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের পঞ্চম কিস্তি ছাড়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেয় আইএমএফ। 

এটি ৭ কিস্তিতে দেওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত ৪টি কিস্তিতে ২.৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে। পঞ্চম কিস্তিতে ৬৮ কোটি ডলার দেওয়ার কথা। এই টাকা ছাড়ের জন্যই এবারের রিভিউ। দ্বিতীয়ত শর্ত পূরণের অগ্রগতি যাচাই করা হবে এই সফরে। 

মূলত আইএমএফ ৬টি শর্ত দিয়েছিল। সরকার কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে— সেটিই দেখবে প্রতিনিধি দল। বিশেষ করে রাজস্ব আদায়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো, জ্বালানি ভর্তুকি কমানো, স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয়, ব্যাংক খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ কমানো ও সুশাসন বিনিময় হার, বাজারভিত্তিক ডলারের দাম, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ— এক অঙ্কে নামানো, সামাজিক নিরাপত্তা— গরিবদের জন্য সুরক্ষা বজায় রাখা— এসব বিষয় দেখবে। এ ছাড়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মুদ্রানীতির রূপরেখা, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।

পুরোনো ঋণ পরিশোধে গুরুত্ব সরকারে : এদিকে বর্তমান সরকার নতুন ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ঋণ শোধের দিকেও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ নতুন বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। 


অন্যদিকে আগের নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করেছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নতুন করে যত ঋণ এসেছে তার চেয়ে ২৭৩ দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। নতুন ঋণের অর্থ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সহজ কথায় বললে, নতুন ঋণের ওপর নির্ভরতা কমছে। আর পুরোনো ঋণ পরিশোধে জোর দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে বিএনপি সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের বাড়তি পরিশোধের চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে। 

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে পরিশোধ করা এ অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎকালে কোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ।

গত বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে সরকারের ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ সময়ে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   বিশ্বদাতা সংস্থা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: