পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রী ও স্ত্রীর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ এন এম সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী নারী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছেও পাঠানো হয়। অভিযোগপত্রে মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও থানায় দায়ের করা দুটি মামলাও উল্লেখ রয়েছে।
মামলাগুলোতে হত্যাচেষ্টা, মারধর, শ্লীলতাহানি, হুমকি এবং নারী নির্যাতনসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। এএসপির স্ত্রী মার্জিয়া আক্তার, স্ত্রীর দুই ভাই তরিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম একটি মামলার আসামি এবং অপর মামলায় শুধু শফিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। এ দুটি মামলা থেকে পরিবারকে রক্ষায় এএসপি তার পদের প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ ওই নারীর। এছাড়া ভুক্তভোগীকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত মুছে বাদীকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে এএসপির বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এএসপি সাইফুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি ফোনে যোগাযোগ করে তার পরিবারের অভিযুক্ত সদস্যদের রক্ষা, গ্রেফতার এড়ানো এবং তদন্তকাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভুক্তভোগী নারীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও আছে এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, কল রেকর্ড ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ এবং অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই অভিযোগপত্রে।
দুটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তারা চার্জশিট জমা দিলেও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, এএসপি সাইফুজ্জামানের নির্দেশে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীর কোনো বক্তব্য ছাড়াই চার্জশিট জমা দিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলো এখনও কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ এন এম সাইফুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ মামলায় এএসপি সাইফুজ্জামান প্রভাব বিস্তার করেছে কি না জানতে চাইলে শফিকুল ইসলামকে আসামি করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কবির সময়ের আলোকে বলেন, ‘এ মামলায় কেউ কোনো প্রভাব বিস্তার করেননি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নিরপেক্ষভাবে আমি এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেছি। মামলার সঠিক তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগ পত্র দাখিলের আগে বাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি বাদীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি এবং তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেও তারে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেছি।’