‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট’—এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, বড় অঙ্কের দুর্নীতি করলেও অর্থ ও প্রভাবের কারণে অনেকেই রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির বাইরে থেকে যান।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ১১ হাজার কোটি টাকা নয়, তিনি যদি এর মাত্র ১ শতাংশ অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকার দুর্নীতিও করতেন, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত না।
তিনি বলেন, ‘এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট। জায়গামতো সালামি আর গিফট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না।’
অর্থ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ আরও লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও।’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, বড় বড় নেতার ছেলেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিসিবি পরিচালক না হওয়া, ‘ফ্যাসিবাদের আইকন’ হিসেবে অভিহিত এক খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে আনতে সমঝোতা না করা, জোর করে সিটি করপোরেশনে বসাতে সহযোগিতা না করা, তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ এবং ভারতীয় দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ফেলানীর নামে করার মতো ‘বোল্ড’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নিজের নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে তিনি কখনো মাথানত করেননি। তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে এমন ‘বোল্ড’ অবস্থান নেওয়াকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, রাজনীতিতে সমঝোতা করে চললে হয়তো আরও ভালো থাকতে পারতেন। তবে সে ক্ষেত্রে সারাজীবন নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হতো।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি বলেন, এমন অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সঙ্গে তিনি আপস করেননি, যাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস এ রাষ্ট্রের অনেকেরই নেই। তার ভাষায়, ‘এমনটা তো হওয়ারই ছিল।’
সময়ের আলো/টিকে