জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ জানা গেছে। তাদের সম্পদের ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।
এদের মধ্যে শেখ ফজলে শামস পরশ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি ছাড়া বাকি চারজনের সম্পদের পরিমাণ জানা গেছে।
ওবায়দুল কাদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের আগে তিনি দেখিয়েছিলেন, তার হাতে আছে নগদ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র আছে প্রায় দেড় কোটি টাকার। গাড়ি একটি, যার দাম ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ছিল ২৫ তোলা সোনা, যার দাম দেড় লাখ টাকা। এছাড়া তার ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে বলে হলফনামায় দেখানো হয়েছিল।
সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পতি হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের স্থাবরের আছে ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমি। এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
ঢাকা–৮ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাছিমের হাতে নগদ টাকা ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ। ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ। বিভিন্ন কোম্পানিতে তার শেয়ার এবং বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৬০ লাখ টাকার। তার দুটি গাড়ি আছে, যার দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। ইলেকট্রনিস সরঞ্জাম ও আসবাবের দাম তিনি দেখিয়েছেন সোয়া ১০ লাখ টাকা। নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
নাছিমের স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। তার অকৃষি জমি রয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে; পরিমাণ ১৫৩ শতাংশ। জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ঢাকার উত্তরায় নাছিমের একটি ভবন রয়েছে। তার দাম ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ঢাকার মিরপুরে তার একটি ফ্ল্যাট আছে। যার দাম ৪৫ লাখ টাকা। নাছিমের মোট স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার।
ঢাকা–১৭ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরবর্তীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী হন। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে আরাফাতের গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। হলফনামায় এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এছাড়া তার নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরাফাতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ শেয়ারে। নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে তার নামে, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
মাইনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তার হলফনামায় স্থাবর সম্পদের মধ্যে একটি কৃষিজমি প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
এছাড়া একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও (ব্যাংকে স্থায়ী আমানত) রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তার তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। নিখিলের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
উল্লেখ্য, রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে আবেদন না হলে রায় বাস্তবায়নে সরকারের আর কোনো বাধা থাকবে না।
সময়ের আলো/জেকিউএফ