হল সংসদের ভিপিকে হুমকির অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রদল নেতা। হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
হল সংসদের সহসভাপতিকে (ভিপি) হুমকি দিয়ে বলা হয়,‘তোর পাওয়ার গুনে গুনে আর ২৮ দিন আছে। ২৮ দিন পরে তোরে হল থেকে পিটাইয়া বের করব। আমি নাসিম যদি এই হলে থাকি’।
অডিওর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর হলে হুমকির এই ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ ওঠে। আর তিনি হুমকি দেন ওই হলের ছাত্র সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে এই হুমকি দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, রিপুল চাকমা ও শেখ নাসিম উদ্দিন দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এক তরুণ ব্যাগ নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। রিপুল চাকমা ওই তরুণের কাছে পরিচয় জানতে চান। তখন ওই তরুণ বলেন, তিনি হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছেন। তখন বিপুল চাকমা অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে অভিযোগ আনেন। বিষয়টি তিনি হলের আবাসিক শিক্ষক নূরে আলমের কাছে জানান।
এরপর শিক্ষক নূরে আলম হলের কক্ষটি পরিদর্শনে যান। তার সঙ্গে রিপুল চাকমা এবং কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। ৩১৩ নম্বর কক্ষে থাকেন ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন। পরিদর্শনে গিয়ে আবাসিক শিক্ষক কক্ষটিতে নতুন করে কাউকে তোলা হয়েছে কি না জানতে চান। এতে রিপুল চাকমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হন ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে রিপুল চাকমাকে হল থেকে পিটিয়ে বের করার হুমকি দেন বলেও জানা যায়।
রিপুল চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, হুমকির ঘটনা হলের ভেতর আবাসিক শিক্ষকের সামনেই ঘটেছে। প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নাসিম আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসেন। এসময় জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা তাকে সরিয়ে দেন। ঘটনার ভিডিও আমার কাছে আছে। ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং চাকসু নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জুনিয়র আমার কক্ষে ঘুরতে এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে রিপুল চাকমা আমাকে গালাগাল করেছেন। ভিপির ক্ষমতা দেখিয়ে হলের গেটে তালা দেওয়ার কথা বলেন। এতে তিনি রিপুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তবে আমি কাউকে গালাগাল করেননি। ভিপি পরিচয়ে ক্ষমতা দেখানোর কারণে তার সঙ্গে আমার কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, একটি কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী উঠার অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। হল সংসদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি।
সময়ের আলো/আতা