ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ছবি ও ঐতিহাসিক স্মারক ভাঙচুরের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। পাশাপাশি সংগ্রহশালায় থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার বিকালে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা।
এ সময় অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১ সালে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত কিছু ছবি ও স্মারকের ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ডাকসু দেশের ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাধিকার, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় জড়িয়ে আছে। ফলে ডাকসু সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত কোনো ছবি, স্মারক বা নিদর্শনের ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ দুঃখজনক।
ইউটিএলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে কোনো স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ এবং আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গে ক্যাম্পাসে ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, যুক্তি, সহনশীলতা ও মুক্ত বিতর্কের জায়গা। তাই মতপার্থক্য বা বিরোধের ক্ষেত্রে যুক্তি ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে ইউটিএলের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সংগ্রহশালায় থাকা ঐতিহাসিক ছবি, দলিল, স্মারক ও অন্যান্য নিদর্শনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সময় ডাকসুর নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনেরও আহ্বান জানায় ইউটিএল। সংগঠনটির মতে, নিয়মিত নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিদর্শনকালে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন ও অধ্যাপক ড. আবু সায়েম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি