কুড়িগ্রামে মাসিক বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত আরও ৫০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কৃষকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এ বরাদ্দের আদেশ দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও ৫০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার পাওয়া গেছে। এসব সার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষি বিভাগের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলায় সার বরাদ্দ ও বিতরণ করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সারের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক বরাদ্দের বাইরে আরও ৫০০ মেট্রিক টন সার পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই-একটি উপজেলা ছাড়া জেলার আর কোথাও সমস্যা নেই। তাহলে সেসব জায়গায় কেন সমস্যা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগ খতিয়ে দেখছে। ডিলার কিংবা অন্য কোনো পক্ষ সার নিয়ে গড়িমসি করছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রামে মোট ১২ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধানের বর্তমান পর্যায়ে ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপরও অনেক কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করছেন। এ কারণে জেলার কয়েকটি স্থানে সারের জন্য কৃষকদের ভিড় ও শোরগোলের সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে কৃষকদের দাবি, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। সার বিতরণে বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের পাশাপাশি মজুদের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষকরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার কিনছেন এবং নির্ধারিত পদ্ধতি না মেনে সার প্রয়োগ করছেন। আমন ক্ষেতে বর্তমানে ইউরিয়া কিংবা ডিএপি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেকে রবি মৌসুমের জন্য আগাম সার সংগ্রহ করছেন, যা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে, সারের কোনো সংকট নেই।
সময়ের আলো/এসএকে